সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম। একই সঙ্গে ভোটার হয়েছেন তার মেয়ে জাইমা রহমানও।
তারেক রহমান ও জাইমা রহমান ভোটার হয়েছেন ঢাকা-১৭ আসনের গুলশান এলাকার ডিএনসিসি ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকালে বলেছেন, “জনাব তারেক রহমান সাহেবের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি মাননীয় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।“
এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন ইসিতে আরও চার সদস্য রয়েছে। তাদের সম্মতিতে বিএনপি নেতার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন গৃহীত হলো।
সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ভোটার হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে; এ শর্ত পূরণে দেশের যেকোনো নির্বাচনি এলাকার ভোটার হলেই চলে। ২৫ বছর বয়সি ভোটাররা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।
তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এনআইডি ও ভোটার তালিকা কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে তারেক রহমানের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তিতে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছে ইসি। তবে ভোটার তালিকা আইনে বলা আছে, ইসি যেকোনো সময় ভোটার হওয়ার যোগ্য যেকোনো ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
এদিকে, তারেক রহমান ও জাইমা রহমানের ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে নিবন্ধন প্রক্রিয়া যেটা আছে ফর্ম ২, ওই ফর্ম ফিলাপ করে ওনারা ছবি তুলেছেন, বায়োমেট্রিকস দিয়েছেন এবং দিয়ে ওনারা আবেদন করেছেন যে ওনাদের যেন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’
এই আবেদন নিয়ে রোববার পূর্ণাঙ্গ কমিশন বৈঠকে বসবে কি না, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নিবন্ধনটা চলমান প্রক্রিয়া। নিবন্ধন কমপ্লিট করেছেন তিনি। ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি যেটা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সে ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত লাগবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত দুইভাবে পাওয়া যায়। একটা হচ্ছে আনুষ্ঠানিক সভা করে, আরেকটা হচ্ছে নথির মাধ্যমে।’
ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেতেও নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সারেন তারেক রহমান। এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এস এম হুমায়ুন কবীরের কাছে সকালে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন, তারেক রহমানের নিবন্ধনপ্রক্রিয়াটি শেষ হতে কত সময় লাগতে পারে? জবাবে এ এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভবপর নয়। এটা ৫ ঘণ্টা, ৭ ঘণ্টা, ১০ ঘণ্টা, কারও কারও ক্ষেত্রে আরও বেশি লাগে, আবার কারও কারও ক্ষেত্রে একটু কম লাগে।
এরআগে, শনিবার দুপুর ১টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে গিয়ে আঙুলের ছাপ, আইরিশের প্রতিচ্ছবি আর বায়োমেট্রিক তথ্য দেন তারেক রহমান।
এরপর ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন, ভোটার তালিকায় নাম তুলতে বিএনপি নেতা শনিবার আনুষ্ঠানিকতা সারলেও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে সময় লাগবে একদিন।
২০০৭-২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। তারেক রহমান তখন ছিলেন কারাগারে। ২০০৮ সালে কারামুক্তির পর তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। এরপর আর দেশে না ফেরায় এনআইডিও পাননি। চব্বিশের আন্দোলনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানে দেশে এসে ভোটার হন।
এক নজরে: নির্বাসন থেকে তারেক রহমানের ভোটের মাঠে ফেরার পথ
সেপ্টেম্বর ২০০৮: তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমান তারেক রহমান।
২০০৮–২০২৪: লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন। সেখান থেকেই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দল পরিচালনা করেন।
৫ আগস্ট, ২০২৪: আওয়ামী লীগ সরকারের পতন। এই পরিবর্তনের পর তার নির্বাচনী রাজনীতিতে ফেরার পথ সুগম হয়।
২০২৪ সালের শেষভাগ: তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান দেশে ফিরে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন।
২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ (শনিবার): দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) গিয়ে আঙুলের ছাপ ও চোখের মণির প্রতিচ্ছবি (বায়োমেট্রিক) দিয়ে ভোটার হওয়ার আবেদন করেন তারেক রহমান।
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ (রোববার): নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমোদন দেয়। একই দিনে তার মেয়ে জাইমা রহমানও ভোটার হন।
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটার হওয়ার মাধ্যমে এই নির্বাচনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণের আইনি বাধা দূর হলো।