Sylhet Today 24 PRINT

তিন কারণে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০২ জানুয়ারী, ২০২৬

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এ ঘোষণা দেন।

মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে তিনটি বিষয়ের কথা বলেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

তৌফিকুর বলেন, হলফনামার এফিডেভিটে একইদিনে আইনজীবী ও প্রার্থীর সই থাকতে হয়। কিন্তু মান্না যেদিন সই করেছেন, আইনজীবী তার একদিন আগেই সই করেছেন। মান্না যেসব মামলায় খালাস পাওয়ার কথা লিখেছেন, সেগুলোর কাগজপত্র দেননি। আর সম্পদের যে বিবরণী দিয়েছেন, তাতে ত্রুটি আছে।

এর আগে মান্নার নাম ঋণ খেলাপির তালিকায় থাকায় তার ভোটের পথ আটকেছিল। ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে নাম কাটানোর জন্য তিনি হাই কোর্টে আবেদন করলে তা খারিজ হয়ে যায়।

সেই আদেশের বিরুদ্ধে মান্না আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে গিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে ঋণ পুনঃতফসিল করে সিআইবির তালিকা থেকে নাম কাটানোর আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী।

এ আবেদন শুনে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক গত রোববার হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। সেই সঙ্গে সিআইবির তালিকায় মান্নার নামও স্থগিত করা হয়। ফলে ঋণ সংক্রান্ত জটিলতায় তার নির্বাচন করার জটিলতা কেটে যায়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১০ ডিসেম্বর মান্নার প্রতিষ্ঠান আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের কাছে খেলাপি ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায়ে নোটিস পাঠায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের বগুড়া বড়গোলা শাখা। মান্না ও তার দুই অংশীদারের ঠিকানায় পাঠানো এই নোটিসে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করতে বলা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরী। এ প্রতিষ্ঠানে ৫০ শতাংশ রয়েছে মান্নার, ২৫ শতাংশ ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরীর এবং বাকি ২৫ শতাংশ শাজাহান চৌধুরীর স্ত্রী ও পরিচালক ইসমত আরা লাইজুর।

ব্যাংকের নোটিসে বলা হয়, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত মুনাফা, চার্জ ও জরিমানা পরিশোধ করেনি। ফলে বকেয়া বেড়ে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকায় দাঁড়ায়।

ইসলামী ব্যাংকের আইনজীবী এম আব্দুল কাইয়ুম রোববার বলেছিলেন, মান্নার ঋণ পুনঃতফসিল হওয়ায় সিআইবি’র ঋণ খেলাপির তালিকায় তার নাম স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। ফলে খেলাপি সংক্রান্ত কারণে তার আর নির্বাচনে বাধা থাকার কথা নয়।

তবে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে যে হলফনামা দাখিল করেন মান্না, তাতে গরমিল ও নথি সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে ডাকসুর সাবেক এ ভিপির ভোটের পথ ফের আটকাল।

আরও ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

মান্না ছাড়াও বগুড়া-২ আসনে আরও তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। স্থগিত রাখা হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত জামাল উদ্দীনের মনোনয়নপত্র।

রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান জানান, সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী, সাবেক সাংসদ শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ত্রুটির কারণে গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার এবং রেজাউল করিম তালু নামে অপর একজনের (স্বতন্ত্র) মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

আসনটিতে বিএনপি মনোনীত মীর শাহে আলম এবং জামায়াতে ইসলাম মনোনীত আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামানের মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.