Sylhet Today 24 PRINT

চুয়াডাঙ্গায় সেনা অভিযানে আটক বিএনপি নেতার মৃত্যু; বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিএনপি নেতা আটকের পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আটক অবস্থায় মৃত এই নেতার নাম শামসুজ্জামান ডাবলু (৫২)। তিনি জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে ডাবলুর।

প্রত্যক্ষদর্শী, বিএনপির নেতা-কর্মী ও পুলিশ সূত্র বলছে, গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল জীবননগর পৌর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে আটক করা হয়। আটকের প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ডাবলুর মৃত্যুর খবর আসে।

এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা রাতেই রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেড দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমীনের উপস্থিতিতে জীবননগর থানার পুলিশ শামসুজ্জামানের মরদেহের সুরতহাল করেছে।

পৌর বিএনপির এই নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গতকাল গভীর রাতেই রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা হাসপাতালের সামনের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা শামসুজ্জামানের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান এই মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘অভিযানের নামে সেনাবাহিনী বেছে বেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। অস্ত্র উদ্ধারের নামে নির্যাতন করার পরও যখন অস্ত্রশস্ত্র পায় না, লাঠিসোঁটা, এটা–ওটা দিয়ে চালান দেয়। সেই নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি যে সহ্য করতে না পেরে শামসুজ্জামান ডাবলু মারা গেছেন।’

মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিষয়টি তিনি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানিয়েছেন। ইসি থেকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। আজ তাঁরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেবেন। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিচার দাবি করেন তিনি।


আজ সকাল ১০টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিএনপি নেতার মরদেহ জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা ছিল। হাসপাতালের ফটকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করায় রোগী ও রোগীর স্বজন ছাড়া অন্য কেউ ভেতরে ঢুকতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসন ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে নিতে চাইলে বাধা দেন বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা।

ওই নেতা-কর্মীদের দাবি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে উপস্থিত হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় নির্যাতনে জড়িত ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে তাঁরা মরদেহ বের করতে দেবেন না। তাঁদের অভিযোগ, আটকের পর শামসুজ্জামানকে মারধর করা হয়। এতে তাঁর মৃত্যু হয়।

জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, শামসুজ্জামানের মৃত্যুর পর সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান তাঁকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি তাঁকে বলেছেন, অভিযান চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদের সময় শামসুজ্জামান শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান।

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলু হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের দাবি এটা হত্যাকাণ্ড। লাশের সুরতহাল হয়েছে, ময়নাতদন্ত হবে। আমরা তদন্ত করে দেখব। যদি হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হয়, তাহলে সরকারের সর্বোচ্চ মহলকে জানাব আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’

 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.