সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের উদ্যোগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬।
শনিবার সকাল ১০ টা থেকে রাজধানীর খামার বাড়ি কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। দুপর দেড়টায় সমাপ্তি ঘটে।
সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউজ এজ সম্পাদক নুরুল কবির। তিনি বলেন, জুলাই স্বাধীন সাংবাদিকতার একটি পথ তৈরি করেছিল কিন্তু তা বাস্তবিক হয়ে ওঠেনি। গণমাধ্যমের উপর হামলা একটি ট্রমা। ডেইলি স্টারের উপর হামলা এটি কোন ভবনের উপর হামলা নয়, সাংবাদিকদের ভেতরে রেখে তাদের প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে এ হামলা। কারো যদি ক্ষোভ থেকে থাকে, তার কারণে সেই ভবন ভাঙা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল না। ২০২১ সালের পর সভ্যতার এই পৃথিবীতে গণমাধ্যমের উপর হামলা আমাদের কে বিশ্ববাসীর কাছে ছোট করেছে।
অনুষ্ঠানে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ ভুলে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সাংবাদিকরা সমাজের ডাক্তার। কারও রোগ হলে যেমন ডাক্তারের কাছে যেতে হয় তেমনি সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে সামাজিক ডাক্তারের ভূমিকা রাখেন সাংবাদিকরা। গণতন্ত্র , ন্যায় বিচার, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, দেশে দুইটি পেশা আছে স্বাধীন। একটি জুডিশিয়াল অপরটি সাংবাদিকতা। যদি ও কিছু বিধি নিষেধ আছে।
প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, কোন সরকারের আমলে গণমাধ্যম স্বাধীন ছিল না। ৫৪ বছরের ইতিহাসে কেউ স্বাধীন গণমাধ্যম চায়নি। ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার আসলে ও এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে না। বরং আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, শেখ মুজিব আমাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার আমলে যায়যায়দিন, আমার দেশ, সংগ্রামসহ অনেক পত্রিকা বন্ধ হয়েছিল। কোন কালেই সাংবাদিকতা নিরাপদ নয়।
মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য আমরা কথা বলছি। এটা বলার প্রয়োজন নাই। কোন সরকারই চায় না গণমাধ্যম স্বাধীন হোক।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী বলেন, আমাদেরকে বিভ্রাট ভুলে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে , সাংবাদিকদের কোন ভালো বন্ধু নাই। ৫৪ বছরের ইতিহাসে আমাদেরকে বাঁচতে হলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যেখানে সংবাদপত্র, সাংবাদিকদের উপর আঘাত আসবে সেখানেই ঐক্য চাই।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সরকারগঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান (মেয়াদোত্তীর্ণ) কামাল আহমেদ, জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক রিয়াজ আহমদ, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নাসির মন্ডল, আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক আবদাল আহমেদ, ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেট ইমরুল কায়েস , দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের মুনিমা সুলতানা, চট্রগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, সিলেট থেকে আগত আহমেদ নুর, লক্ষীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহফুজ হান্নান, ব্রা্ক্ষণবাড়িয়া থেকে আগত কালের কন্ঠের আঞ্চলিক রিপোর্টার নূর আহমেদ অপু, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুদ্দৌলা প্রমুখ।