Sylhet Today 24 PRINT

পুরুষই নারীর পরিচালক, এটা মেনে নিয়েই রাজনীতিতে এসেছি: জামায়াত নেত্রী নূরুন নেসা

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেছেন, নারীরা জামায়াতের আমির হতে পারবে না। আমরা একটা ইসলামি দল। আসলে পুরুষই নারীর পরিচালক, এটা মেনে নিয়ে আমরা রাজনীতিতে এসেছি।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জামায়াতের মহিলা শাখার চার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বৈঠকে বসে দলটি। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে নানা অভিযোগ সিইসির কাছে উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী শাখার সদস্য মারজিয়া বেগম ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সদস্য ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট বৈঠকে অংশ নেন।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ওলিউল্লাহ নোমান উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতের এই নারী নেত্রী বলেন, নারী শীর্ষ পদে থাকলেই একটা কিছু হবে এটা ঠিক নয়। এর আগে দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কিন্তু নারীর কোনো উন্নয়ন হয়নি। জামায়াত নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী।

হাবিবা চৌধুরী সুইট বলেন, আমরা লোকাল ইলেকশনে নারী প্রার্থী দিচ্ছি এটা কিন্তু প্রমাণিত। পরবর্তীতে নারীরাও জামায়াতের ভালো পদে আসবে। পরবর্তী সময়ে নারীরা সংসদ ভোটে সরাসরি লড়াই করবে।

বৈঠক শেষে জামায়াতের নারী নেত্রীরা বলেন, ভোটের প্রচারে গিয়ে দলটির নারী সদস্যরা আক্রমণের শিকার হন। নারী কর্মীরা যখন ভোটের প্রচারণায় যাচ্ছেন তখন একদল লোক হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন নারীরা। সাইবার সিকিউরিটি আইনে প্রস্তুতি নিয়েছি। এ ধরনের কার্যক্রম এবং দলের শীর্ষ নেতার আইডি হ্যাক করে কুরুচিপূর্ণ ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হচ্ছে।

যারা এ কাজে জড়িত তাদের খোঁজ নিয়ে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান জামায়াতের এই নারী নেত্রীরা। দারা বলেন, আমরা সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। এটি জাতিরও প্রত্যাশা। দুটো নির্বাচন একসঙ্গে হচ্ছে। এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটা ইতিবাচক নির্বাচন আমাদের প্রত্যাশা।

এ ব্যাপারে সরকার দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

বক্তারা বলেন, এই প্রথম জামাতের মহিলা উইং থেকে আমরা নির্বাচন কমিশন এসেছি। সারা বাংলাদেশে আমাদের মা-বোনদের ওপর যে হামলা হয়েছে সে বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। আমরা ঘরে বসে থাকতে পারিনি। আমরা স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। বাংলাদেশে ফিফটি পার্সেন্ট নারী। আমরা সুষ্ঠু একটা পরিবেশ ভোট দিতে চাই। এই বোনদের প্রতিহত করতে গভীর স্বরযন্ত্র করছে। আমাদের ৫০ পার্সেন্ট আমরা রিপ্রেজেন্ট করছি। এই অর্গানাইজেশনে আমাদের অধিকার দিচ্ছে, আমাদের সম্মান দিচ্ছে। আমাদের মেয়েদের মধ্যে কাজ হচ্ছে। আমরা লিডারশিপ দিচ্ছি। আমরা ট্রেনিং নিচ্ছি। কিছু মহল এই অ্যাক্টিভিটি পছন্দ করছে না। তাই প্রতিহিংসার কারণে আমাদের ওপর হামলা করছে। আমরা কোনো খারাপ কাজ করছি না। একটা সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ করে দেওয়ার জন্য ইসির কাছে দাবি জানিয়েছি।

জামায়াতের নারী নেত্রীরা বলেন, ফোর্স করে আমাদের নারীদের রুখতে পারবে না। যেখানে বাধা আসবে সেখানেই প্রতিবাদ করবো। আমাদের সাহস আছে, আমাদের ঈমান আছে। আমরা কোনো বাধা মানবো না।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.