Sylhet Today 24 PRINT

বিসিক উদ্যোক্তাদের সুখবর দিলেন শিল্পমন্ত্রী 

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) অধিভুক্ত শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা ঋণের ব্যবস্থা করতে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, আমরা কিছুদিন আগে বিসিকের শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ক্রেডিট সংস্থার অধিনে ৩০০ কোটি টাকার ঋণের ব্যবস্থা করেছি। এটিকে বাড়িয়ে ২ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

নববর্ষ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিসিক এবং বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে আয়োজিত সাত দিনব্যাপী ‘বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বহু বড় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কারণে তাদের ঋণের অর্থ ফেরত দিতে পারে না। কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা শতভাগ ঋণের অর্থ পরিশোধ করে। অবশ্য বাজারে প্রচলিত ঋণের সুদ হারের থেকে তাদের সুদ হার প্রায় অর্ধেক। আগামীতে এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই আমাদের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত মেলার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতির মাত্র ১৫ শতাংশ হলো ফরমাল ইকোনোমি। বাকি ৮৫ শতাংশই ইনফরমাল ইকোনোমি। যারা অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, তারা ডকুমেন্টেড না (দৃশ্যমান না)। আমাদের এমএসএমই উদ্যোক্তারা হলেন সেই অদৃশ্যমান অর্থনীতিরই একটা অংশ। যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কারুকর্ম ও কুটির শিল্পের ধারক-বাহক তাদের অংশগ্রহণে আজকের এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আমরা বিসিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় তাদের পাশে থাকতে পেরে আনন্দিত।

পহেলা বৈশাখে শৃঙ্খলা ও পরিবেশ বিষয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাঙালি সংস্কৃতির সবচেয়ে উৎকৃষ্টতম দিন বাংলা নববর্ষ। গত দেড় দশকের বেশি সময়ে প্রত্যেকটি পহেলা বৈশাখ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্বাভাবিক বর্ষবরণ হবে নাকি অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা ঘটবে, সেই ভয় বিরাজ করতো। আগের প্রত্যেকটি পহেলা বৈশাখে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা, চার স্তরের নিরাপত্তা, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিতে হয়েছে। এ বছর সেই নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ যে কতটা শান্তিপ্রিয়, কতটা সুশৃঙ্খল ও স্বাভাবিক তা এবারের বর্ষবরণ দেখে আমরা বুঝতে পারি।

তিনি আরও বলেন, এবার বর্ষবরণে সকাল থেকেই যে সংখ্যায় মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে এসেছে, তা অভূতপূর্ব। তাছাড়া শৃঙ্খলায়ও কোথাও কোনো ব্যতয় ঘটেনি। নিরাপত্তারও অভাব নেই। আমরা যে শান্তিপ্রিয় মানুষ, তা আজকে প্রমাণ হয়ে গেছে। দীর্ঘবছর ন্যারেটিভের আড়ালে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করার যে সংস্কৃতি ছিল, সেটি থেকে এখন আমরা বেরিয়ে আসতে পেরেছি। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পেরেছি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম। 

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, বাংলা একাডেমির সভাপতি শিক্ষাবিদ আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.