Sylhet Today 24 PRINT

‘চুরি ও জমি দখলের’ এক মামলায় জামিন পেলেন চিন্ময় দাস

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে চুরি, জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগে বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীনের করা একটি মামলায় জামিন পেয়েছেন সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাখাওয়াত হোসেন শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী কৃষ্ণ প্রসাদ শর্মা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাদী ও আসামি পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

মামলার নথি ও আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৪ জুন বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ সাতজনের বিরুদ্ধে চুরি, জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় গত বছর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল।

পরে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন আইনজীবী। আদালত গত সপ্তাহে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এরপর বৃহস্পতিবার জামিনের আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই মামলায় জামিন পেলেও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলাসহ আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

মামলার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের পুণ্ডরীক ধাম এলাকার জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধের জেরে পুণ্ডরীক ধাম পরিচালনাকারী পক্ষ এবং বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন ও তার পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলে এবং পৃথকভাবে মামলা করে।

২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর কোতোয়ালি থানায় বিএনপি নেতা ফিরোজ খান বাদী হয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এরপর ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। ওই ঘটনায় ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫-১৬ জনকে আসামি করা হয়।

সেদিন আইনজীবীদের ওপর হামলা, বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন আলিফের ভাই খানে আলম, যেখানে ১১৬ জনকে আসামি করা হয়। এর বাইরে আদালত এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। ওই তিন মামলায় মোট ৭৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১ হাজার ৪০০ জনকে আসামি করা হয়।

আদালত এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় সবশেষ ৩ ডিসেম্বর মোহাম্মদ উল্লাহ নামের এক ব্যক্তি ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতাসহ ২৯ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করেন।

এরপর ২০২৫ সালের ৫ মে চিন্ময় দাসকে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তারপর ওই ঘটনায় হওয়া অন্য মামলাগুলোতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার তদন্ত শেষে পুলিশের অভিযোগপত্রে চিন্ময়কে প্রধান আসামি করা হয়। ইতোমধ্যে সেই হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। বর্তমানে কারাগারে আছেন চিন্ময়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.