Sylhet Today 24 PRINT

হামের টিকা আমদানি না করায় ইউনূস-সরকারকে দুষলেন প্রধানমন্ত্রী

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিশুদের হামের টিকা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘সব রাজনৈতিক দল মিলে একটি স্বৈরাচারী সরকারকে বিতাড়িত করেছি। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, সেই স্বৈরাচারের সময় এবং আরো দুঃখজনক ব্যাপার, আমরা যেই অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিয়েছিলাম দেশে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন করার জন্য, দুঃখজনকভাবে সেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়সহ শিশুদের হামের টিকা কয়েক বছর ধরে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়নি।’

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

সম্পূরক প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামে দেশের একমাত্র সংক্রামক রোগের চিকিৎসাকেন্দ্র ও বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে হাম শনাক্তকরণের ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। এ কারণে হাম শনাক্ত করতে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে নমুনা ঢাকার পাবলিক হেলথ সেন্টারের ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড রুবেলা ল্যাবরেটরিতে পাঠাতে হচ্ছে। এতে রোগ শনাক্তে রোগীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এ অবস্থা উত্তরণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।

জবাবের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, সংসদ সদস্য যে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন, আসলে এটি একটি খুব দুঃখজনক ঘটনা। টেস্ট করার যে কিট, সেটির স্বল্পতা রয়েছে সঠিক। এটির ব্যাপারেও সরকার কাজ করছে। এর মধ্যে অনেক কিট এসে পৌঁছেছে। কিছু কিট এই মুহূর্তে এয়ারপোর্টে আছে। সেগুলো দ্রুত ছাড় করানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

ইউনিসেফ টিকা দিয়ে সহায়তা করছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘তারা দ্রুত হামের টিকা পাঠিয়েছে। প্রায় দুই কোটি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে।’

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য রবিউল আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সাত দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি কৃষি নির্ভর দেশ। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমরা যেটি সবাই দেখছি, আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে বিভিন্ন বিষয়। যেমন জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির পরিমাণ হ্রাস এবং প্রযুক্তির যে সীমাবদ্ধতা—এসব কারণে কৃষি খাত বিভিন্ন রকম চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। আমাদের এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই কৃষি উৎপাদন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষিকে টেকসই এবং লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে আমরা এরই মধ্যে ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করেছি।’

তিনি বলেন, ‘কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ১০টি সেবা, যথা—ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমা সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য প্রাপ্তিসহ ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ প্রদান ইত্যাদি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষকে এ কার্ড প্রদান করা হবে।’ প্রধানমন্ত্রী কৃষি উন্নয়নে সরকারের সাত দফা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষির উন্নয়নে বর্তমান সরকার আরো অনেক সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এজন্য এরই মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি সরকার হাতে নিয়েছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি প্রদান করে ট্রাক্টর, হারভেস্টার, রিপারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করার পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে।’

নেত্রকোনো-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলেছি যে প্রান্তিক কৃষক যাঁরা আছেন তাঁদেরকে আমরা এই কৃষক কার্ড সহায়তার মধ্যে নিয়ে এসেছি এবং প্রান্তিক কৃষক বা একদম ক্ষুদ্র কৃষক যাঁরা আছেন তাঁদেরকে সহায়তা যেটা আমরা দিচ্ছি, সেটার ভেতর দিয়েই আমরা কৃষি শ্রমিক যাঁরা আছেন তাঁদেরকে আমরা সহায়তা পৌঁছে দিতে চেষ্টা করব। তাঁদের যেই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আমরা যেই অর্থনৈতিক সহযোগিতা করছি সেখান থেকেই একদম শ্রমিক যাঁরা আছেন তাঁরাও সেই সহযোগিতার অংশীদার হবেন।’

প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম ফ্লোর নিয়ে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সার সরবরাহের জন্য যেসব ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ওই ডিলাররা সার উত্তোলন করছেন না। তাঁরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছেন। সংসদের পক্ষ থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন, যেন নতুন করে ডিলার নিয়োগ করা হয়। সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে চিফ হুইপের বক্তব্য সমর্থন করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘পুরো সংসদ বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে। এ ব্যাপারে পুরো সংসদের সম্মতি থাকলে সরকার শিগগিরই এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.