সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর তার রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়াহকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে হিশামের বাড়িতে পারিবারিক সহিংসতার একটি অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউয়ার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কে এই হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়াহ
সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়াহ লিমনের রুমমেট ছিলেন এবং তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সাবেক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, হিশাম ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সেখানে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, হিশামের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, প্রহার, অবৈধভাবে আটকে রাখা, তথ্য-প্রমাণ লোপাট, মৃত্যুর খবর জানাতে ব্যর্থ হওয়া এবং বেআইনিভাবে লাশ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার সকালে অভিযুক্তের বাড়িতে পারিবারিক সহিংসতার এক ফোনকলের ভিত্তিতে এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়।
হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে এমন হত্যাকে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার বলে।
তদন্তকারীদের নজরদারিতে ছিলেন রুমমেট হিশাম
শুক্রবার গ্রেপ্তারের আগে হিশামকে অন্তত দুইবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জানা যায়, শুরুতে তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বললেও গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফার জিজ্ঞাসাবাদের সময় হিশাম সহযোগিতা করা বন্ধ করে দেন। তবে শুক্রবারের মধ্যেই তদন্তকারীরা লিমনের মরদেহের সঙ্গে হিশামের যোগসূত্র খুঁজে পেতে সক্ষম হন।
জানা যায়, গ্রেপ্তারের সময় হিশাম নিজেকে ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে সোয়াত টিম এবং সংকট নিরসন বিশেষজ্ঞদের তলব করা হয়। গ্রেপ্তারের সময়ের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বাড়ির সামনে একটি সাঁজোয়া যান দাঁড়িয়ে আছে এবং হিশাম কোমরে গোসলের তোয়ালে জড়ানো অবস্থায় হাত উঁচিয়ে সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসছেন।
এর আগে তার ভাইয়ের করা পারিবারিক সহিংসতার এক অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত ওই বাড়িতে হিশামের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মারধরের অভিযোগে হিশাম দুইবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, যদিও পরবর্তীতে সেই অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর হিশামের ভাই একটি নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেছিলেন যাতে হিশাম তার কাছে আসতে না পারেন বা বাড়িতে ফিরতে না পারেন। আদালতের নথিতে হিশামের ভাই অভিযোগ করেছিলেন যে, বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলায় হিশাম তার মা এবং ভাইয়ের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন।
গত বছরের মে মাসে সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলে হিশামের ভাই তা বাড়ানোর আবেদন করে বলেছিলেন যে, তিনি হিশামের ফিরে আসার ঝুঁকি নিতে চান না। তবে আদালত সে সময় তার সেই আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছিলেন।