Sylhet Today 24 PRINT

রাত দেড়টায় স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বাসেই ঘুমিয়ে পড়েন বুলেট, এতেই ঘটে বিপত্তি

সিলেটুডে ডেস্ক |  ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

রাত ১টা ২৫ মিনিটে স্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন বুলেট বৈরাগী। স্ত্রী ঊর্মি হীরাকে তিনি বলেন, 'ঘুমিয়ে পড়ো, আমার আসতে দেরি হবে।' এরপর পরিবারের সঙ্গে কথা হয়নি তার। বাসেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি।

ঘুমিয়ে পড়ার এক পর্যায়ে বাসটি কখন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড অতিক্রম করে তা টের পাননি তিনি। এমনকি তুলনামূলক নিরাপদ জায়গা কোটবাড়ি বিশ্বরোডও পার হয়ে যায় বাসটি। হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে কুমিল্লায় নামার কথা বললে বাসের হেলপার তাকে মহাসড়কের জাগুরঝুলি এলাকায় নামিয়ে দেন।

আধাকিলোমিটার সামনে গেলে তিনি নামতে পারতেন আলেখারচর বিশ্বরোডে। কাছাকাছি তিন তিনটি নিরাপদ জায়গা থাকতে ঘুমের বিভ্রম এবং বাস চালনার দায়িত্বে থাকাদের নির্বুদ্ধিতায় তাকে নেমে যেতে হয় অনিরাপদ স্থানে। আর এই অনিরাপদ স্থানে নেমেই বিপদ ডেকে আনেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। শেষমেশ তাকে জীবন দিতে হয়।

বুলেট বৈরাগীর মামা কার্তিক বলেন, 'স্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলার পর পরিবারের আর কারো সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি তার। ঘুমের মধ্যেই বাসটি পদুয়ার বাজার ওভারপাস হয়ে সামনের দিকে চলে আসে। এতেই সে ভুল স্থানে নেমে যায়।'

তিনি বলেন, 'তার হাতে দুটি কাটা দাগ ছিল। ধস্তাধস্তির সময় ছোরা দিয়ে হয়তো আঘাত করা হয়েছে। যা হয়ে গেছে, তাকে আর ফেরত পারব না। তবে আমরা হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।'

সূত্র জানায়, কুমিল্লা বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে বুলেট বৈরাগী যোগ দেন ৮ মাস আগে। সীমান্তে চাকরি হওয়ায় কুমিল্লার অনেক স্থান সম্পর্কে তার ধারণা ছিল না। যে স্থানে তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়, ওই স্থান থেকেও তিনি সরাসরি কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড়ে প্রবেশ করতে পারতেন। তবে রাত ৯টার পর শহরে প্রবেশের জন্য এখানে তেমন গাড়ি থাকে না। এরপর থেকেই এটি অনিরাপদ হয়ে পড়ে।

বাসে মাত্র আধামিনিটের পথ অগ্রসর হলে বুলেট বৈরাগী আলেখারচর বিশ্বরোড নেমে যেতে পারতেন। ওই স্থান থেকেও তিনি সহজে শহরে প্রবেশ করতে পারতেন।

কিন্তু ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) জানায়, বুলেট বৈরাগী বাস থেকে নামার পর উল্টোপথের জাঙ্গালিয়ার গাড়ি খোঁজ করেন। সেখানে সিএনজি অটোরিকশায় ওঁৎ পেতে থাকা পেশাদার ছিনতাইকারীরা বুলেট কোথায় যাবেন জানতে চায়। তিনি বলেন, জাঙ্গালিয়ায় যাবেন। এসময় তারা তাকে গাড়িতে তোলেন।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) কারওয়ান বাজারের র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, এই খুনের সঙ্গে জড়িত পাঁচ সদস্যের একটি পেশাদার ছিনতাইকারী চক্র। যাত্রী সেজে ফাঁদ পাতে তারা। জড়িত সবাই কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার বাসিন্দা। তারা হলো- ইমরান হোসেন হৃদয় (৩৭), মোহাম্মদ সোহাগ (৩০), ইসমাইল হোসেন জনি (২৫), মোহাম্মদ সুজন (৩২) ও রাহাতুল রহমান জুয়েল (২৭)।

তিনি জানান, হত্যার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যরা বুলেট বৈরাগীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট, ব্যাগ ও অল্প কিছু টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে চলন্ত সিএনজি অটোরিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের কারণে মারা যান তিনি।

কুমিল্লা বিবিরবাজার স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বুলেটের বাড়ি গোপালগঞ্জে। বিবিরবাজারে যোগদানের পর তিনি পরিবার নিয়ে কুমিল্লার রাজাগঞ্জ পানপট্টিতে বাসা ভাড়া নেন। পানপট্টি থেকে বন্দরের দূরত্ব পাঁচ কিলোমিটার।

বিবিরবাজার স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জামাল আহমেদ বলেন, 'বুলেটের ব্যবহার ছিল অসাধারণ। তিনি দেশের সম্পদ ছিলেন। দেশকে অনেক কিছু দিতে পারতেন তিনি। তার মৃত্যু আমাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো।'

উল্লেখ্য, বুলেট বৈরাগীর রক্তাক্ত মরদেহ মহাসড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে আইরিশ হোটেলের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.