সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
ছবি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সৌজন্যে
রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষককে ‘বাসায় ডেকে’ নিয়ে ‘অপমান ও হেনস্তার’ অভিযোগ তুলে হাই কোর্টের একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে স্কুলটির শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন।
রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাকরাইলে অবস্থিত স্কুলটির সামনে বিক্ষোভের পর এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বিকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর কাছে স্মারকলিপিটি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা।
স্মারকলিপিতে দশম শ্রেণির কয়েকজনসহ স্কুলের ২২ শিক্ষার্থী সই করেছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষের গত ১৬ এপ্রিলের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা মাধ্যমের দিবা শাখার সহকারী শিক্ষক দয়াল চন্দ্র পালকে বাসায় ডেকে নিয়ে যান একজন বিচারপতি। সেখানে তাকে ‘অপমান ও হেনস্তা’ করেন ওই বিচারপতি ও তার স্ত্রী।
বিষয়টি জানাজানি হলে রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাকরাইলে স্কুলের সামনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ করেন। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
স্কুলটির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাহিদ হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী গত ১৬ এপ্রিল ক্লাসে বিরক্ত করলে শিক্ষক দয়াল চন্দ্র তাকে ‘শাসন’ করেন। এ ঘটনার জেরে ওই শিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে ওই বিচারপতি ও তার স্ত্রী অপমান করেন বলে অভিযোগ ওঠার পর স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ করেছে।
তিনি বলেন, রোববার বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। তারা এ ঘটনা জানাজানির পরও প্রতিবাদ না করায় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষেরও পদত্যাগ দাবি করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক দয়াল চন্দ্র পাল রাতে মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতায় থাকার কথা তুলে ধরে বলেন, “আমি আতঙ্কিত, বিচারপতি কখন তার ক্ষমতা ব্যবহার করে আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান সে শঙ্কায় আছি।”
এ বিষয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আ স ম শামসুল আলম খানকে ফোন করা হলে তা দীর্ঘসময় ধরে বন্ধ পাওয়া যায়।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে অভিযোগ করেন, গত ১৬ এপ্রিল বাংলা মাধ্যম দিবা শাখার সহকারী শিক্ষক দয়াল চন্দ্র পাল দশম শ্রেণির ‘এ’ সেকশনের ক্লাস নিচ্ছিলেন।
“পদার্থ বিজ্ঞান পাঠদানের সময় একজন শিক্ষার্থী স্যারকে কয়েকবার অন্য বিষয়ে দৃষ্টি আকষর্ণ করে। স্যার ওই শিক্ষার্থীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষার্থী তাকে বাংলা বিষয়ের একটি সমস্যা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বলে। স্যার তাকে এই বলে যে, আমি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। তোমার বিষয়টি একজন বাংলা বিষয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকের কাছ থেকে বুঝে নেওয়ার জন্য বলে। কিন্তু ওই শিক্ষার্থী আরো একবার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলে দয়াল স্যার তার সামনে আসলে হঠাৎ শিক্ষার্থী স্যারের স্পর্শকাতর অংশে দুইবার জোরে চাপ দেয়। এতে করে ওই শ্রেণির শিক্ষার্থীরা হাসাহাসি করলে স্যার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীর পিঠে তিনটি থাপ্পর মারেন।"
শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, এ ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীর বিচারপতি বাবা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মাধ্যমে শিক্ষক দয়াল চন্দ্রকে বাসায় ডেকে পাঠান। বাংলা মাধ্যমের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিনকে নিয়ে সহকারী শিক্ষক দয়াল চন্দ্র বিচারপতির বাসায় যান।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, “দয়াল স্যার বিচারপতি মহোদয়ের বাসায় গেলে বিচারপতি ও উনার সহধর্মিনী দয়াল স্যারকে চরমভাবে অপমানিত করে এবং শিক্ষার্থীর নিকট দয়াল স্যারকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য বলে। দয়াল স্যার এক পর্যায়ে অপমানিত বোধ ও লজ্জায় বিচাপতি মহোদয়কে ‘সরি’ বলে বের হয়ে যান।”
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম