Sylhet Today 24 PRINT

জামায়াত নিজেই স্বীকার করে নিয়েছে কারা খুনি-ধর্ষক ছিল: আইনমন্ত্রী

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইন পাসের বিরোধিতা না করার মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামী স্বীকার করে নিয়েছে কারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল ও কারা খুন-ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিল।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের যা কিছু শ্রেষ্ঠ অর্জন, তার সবকিছুর সঙ্গেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তার পরিবার জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন সরকারি দলের এক সংসদ সদস্য।

একইসঙ্গে তিনি সংসদে দেওয়া বিরোধীদের সংস্কার প্রস্তাবে ‘জুলাই সনদে’র উল্লেখ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রির অভিযোগ তুলে কড়া সমালোচনা করেন।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আইনটি পাসের সময় বিরোধী দল বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী কোনো বিরোধিতা করেনি এবং এনসিপি লিখিতভাবে সমর্থন জানিয়েছে।

এর মাধ্যমে কার্যত তারা স্বীকার করে নিয়েছে যে, ১৯৭১ সালে কারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল এবং কারা খুন-ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিল। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, ‘আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে আমরা নির্যাতিতের পক্ষে ছিলাম। বাংলাদেশ তখন দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। একদিকে ছিল ফ্যাসিস্ট, গুটিকয়েক লুটেরা ও খুনি; অন্যদিকে ছিলাম আমরা সবাই। আমরা চাই, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ৯০-এর চেতনার মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে।’

বিরোধীদের দেওয়া সংস্কার প্রস্তাবের সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল সংসদে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে একটি লিফলেট দেওয়া হয়েছে বিরোধী দল কেন সংস্কার চায়, সে বিষয়ে। কিন্তু সেখানে কোথাও ৩৩টি রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদে’র নাম বা চিহ্ন নেই। জুলাই সনদ থেকে গণভোটকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এটা সংবিধান ও আইনের সঙ্গে প্রতারণা।’

ব্রিটিশ আমলের শিক্ষাব্যবস্থার উদাহরণ টেনে মো. আসাদুজ্জামান কটাক্ষ করে বলেন, ‘উনাদের প্রস্তাব দেখে মনে হলো, আমরা যেন এখনো ব্রিটিশদের করে দেওয়া সেই ৩৩ পাসের যুগে আছি। জুলাই সনদের কোনো শব্দ উনাদের সুপারিশে না থাকাটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

এসময় তিনি ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দারউইশের একটি কবিতা উদ্ধৃত করে বিরোধীদের ‘শুভ বুদ্ধির উদয়’ কবে হবে, সে প্রশ্ন তোলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠে যখন মা-বোনের কাছে ভোট চাইতে গেছি, তখন নিজে কানে শুনেছি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতের টিকিট পাওয়া যাবে। আজ যদি তারা স্বীকার করেন যে সেই কথা ভুয়া ছিল, তবে তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

জনগণের প্রকৃত সমস্যা নিয়ে বিরোধী দল কথা বলছে না অভিযোগ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আজ সংসদে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কথা বলার কথা ছিল। কীভাবে চার কোটি মানুষের কাছে এটি আরও সুন্দরভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেখানে কোনো দুর্নীতি বা দলীয়করণ হচ্ছে কি না– তা নিয়ে কথা বলার কথা ছিল। কৃষকের ভাগ্য নিয়ে, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক চালু করা ইমামদের ভাতা নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু এসব নিয়ে বিরোধী দলের কোনো কথা নেই, কোনো ধন্যবাদও নেই।’

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সংসদকে প্রাণবন্ত রাখায় বিরোধীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে উনারা অকারণে সংসদ বয়কট করেছেন, উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন। তবে প্রেমে যদি কাঁটা না থাকে, তবে প্রেমের স্বাদ কী? আসুন, আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া বাংলাদেশ গড়ি। আমরা ব্যর্থ হলে কবি হেলাল হাফিজের ভাষায় উত্তরসূরিদের কাছে ভীরু কাপুরুষ হয়ে থাকব, নিশ্চয়ই আমরা সেটা চাই না।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.