Sylhet Today 24 PRINT

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করে সে অর্থ শিল্প ও কৃষিতে ভর্তুকি দেওয়ার দাবি সিপিবির

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০২ মে, ২০২৬

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করে সে অর্থ দিয়ে দেশের শিল্প ও কৃষিতে ভর্তুকি দিতে হবে। শ্রমিকের রক্ত শোষণ করে বোয়িং বিমান কেনা চলবে না। অবিলম্বে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে।

মে দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১ মে) মিরপুরের সেনপাড়ার ভিশন মোড়ে সিপিবি আয়োজিত সমাবেশে শ্রমিক-কৃষকসহ মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বান জানান বক্তারা।

সমাবেশে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, মহান মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। শ্রমিকের কাজের ন্যায্য মজুরি, নিরাপত্তা এবং শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অবিলম্বে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করে সে অর্থ দিয়ে দেশের শিল্প ও কৃষিতে ভর্তুকি দিতে হবে। শ্রমিকের রক্ত শোষণ করে বোয়িং বিমান কেনা চলবে না। অবিলম্বে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে। শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করো।

সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর বলেন, পুনর্বাসনের সুস্পষ্ট ব্যবস্থা ছাড়া কোনও হকার উচ্ছেদ চলবে না। বাংলাদেশের নগর অর্থনীতিতে হকারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাদের জীবিকা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করে পরিকল্পিত পুনর্বাসনের মাধ্যমেই যেকোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য লাকী আক্তার বলেন, চা শ্রমিক, হোটেল শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিকসহ সব প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষের জন্য ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সাপ্তাহিক ছুটি, চিকিৎসা সুবিধা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকের মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সেজন্য এই বাণিজ্য চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আইটি ও আউটসোর্সিং শ্রমিকদেরও শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের জন্য চাকরির নিরাপত্তা, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, চুক্তিভিত্তিক শোষণ বন্ধ এবং ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য জামাল হায়দার মুকুল বলেন, মহান মে দিবস ১৮৮৬ সালের শিকাগোর শ্রমিকদের আট ঘণ্টা কর্মদিবসের রক্তঝরা সংগ্রামের স্মারক। সেই আত্মত্যাগ আজও বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের অনুপ্রেরণা।

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকরা আজও ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, চাকরির নিরাপত্তা ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারের জন্য সংগ্রাম করছে। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত বলেন, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না। চা শ্রমিক, হোটেল শ্রমিক, হকার, আইটি ও আউটসোর্সিং শ্রমিক থেকে শুরু করে কলকারখানার শ্রমিক– সব খাতের শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

বক্তারা অবিলম্বে এসব দাবি বাস্তবায়নে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান এবং শ্রমিক শ্রেণির ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশের সাংস্কৃতিক পর্বে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গণসংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করেন।

সমাবেশ থেকে কিছু দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো– আট ঘণ্টা কর্মদিবস, ন্যায্য মজুরি, সমকাজে সমমজুরি, কারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, অবসরকালীন বেনিফিট চালু ও বাস্তবায়ন, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিতকরণ ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.