সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৬ মে, ২০২৬
দেশের হাওর এলাকায় সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির তিন দিনের মধ্যে উন্নতি হওয়ার আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলেছে, নতুন করে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এ অঞ্চলের কিছু নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে আটটি নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর রহমান বলেন, নতুন করে বৃষ্টি না হলে আগামী তিন দিনের মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জের হাওরসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
বুধবার বিকালে তিনি বলেন, "গত ২৪ ঘণ্টায় উজানে ও দেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টিপাত দেখা যায়নি। ফলে উত্তর পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি কোথাও কমতে শুরু করেছে; কোথাও স্থিতিশীল আছে।
“এমন পরিস্থিতিতে আগামী তিন দিনের মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জের হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।"
কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি বেড়ে এ চার জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
গত ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলেও ‘পানি নেমে যেতে না পারায়' এখনও এ অঞ্চলের আটটি নদীর পানি দশটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে তুলে ধরেন মঞ্জুর রহমান৷
বুধবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সবশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা ও ভুগাই-কংস নদীর পানি কমেছে এবং কুশিয়ারা ও ধনু বাউলাই নদীর পানি স্থিতিশীল আছে।
বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া আট নদীর মধ্যে রয়েছে, কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে, সুনামগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর মারকুলি পয়েন্টে ও নালজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে, নেত্রকোণার বাউলাই নদী খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে, জুগাই-কংস নদী জারিয়াজঞ্জাইল পয়েন্টে, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে, মগরা নদী নেত্রকোণা ও আটপাড়া পয়েন্টে, হবিগঞ্জ জেলার কালনি-কুশিয়ারা নদী আজমেরিগঞ্জ পয়েন্টে এবং সুতাং নদীর সুতাং-রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্ট।
গত ২৪ ঘন্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে এবং অভ্যন্তরে হাওর অববাহিকায় ভারি বৃষ্টিপাত না হলেও আগামী তিন দিন এ অঞ্চলে মাঝারি থেকে মাঝারি ভারি বৃষ্টি হতে পারে বলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাতে জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
২৪ ঘণ্টায় ১২ থেকে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার হলে মাঝারি-ভারি, আর ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে ভারি বৃষ্টি বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বুধবার জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন কমতে পারে; ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কুশিয়ারা অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
নেত্রকোণা জেলার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং নেত্রকোণা জেলার ভুগাই-কংস অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং ধনু-বাউলাই অববাহিকার হাওর সংসন্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু নদীর পানি সমতল আগামী দুই দিন কমতে পারে ও তৃতীয় দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
জুড়ি ও খোয়াই নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং সুতাং নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়ে হবিগঞ্জ জেলার সুতাং অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির বার্তা দেওয়া হয়েছে এ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে।