Sylhet Today 24 PRINT

বড় হচ্ছে মন্ত্রিসভার আকার, আলোচনায় কারা

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৯ মে, ২০২৬

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের বড় মন্ত্রিসভা আরও বড় হচ্ছে। ঈদুল আজহার পর একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় রদবদল ও কলেবর বাড়ার বিষয়টি বিএনপি ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রিসভায় নতুন করে যুক্ত হতে পারেন কয়েকজন অভিজ্ঞ ও নতুন মুখ। দুয়েকজন মন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হতে পারে। এক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দায়িত্ব সীমিত রাখা হবে একজন মন্ত্রীকে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করা সরকার জনসেবা ও প্রশাসনের গতি বাড়াতে এই পদক্ষেপ নিতে পারে। মূলত যেসব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বেশি এবং যেখানে বর্তমানে একক নেতৃত্বে একাধিক দফতর পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য।

বর্তমানে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কোনো উপমন্ত্রী নেই। এদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামালকে ডেপুটি স্পিকার করা হয়েছে। এর মধ্যে মেজর (অব.) হাফিজের মন্ত্রণালয়ে আহমেদ আজম খানকে মন্ত্রী পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে কয়েকজন উপমন্ত্রীর পদও সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী আসন থেকে নির্বাচিত একজন সদস্যকেও মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো জানায়, আসন্ন বাজেটের পর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারিত হতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদের একজন উপসচিব বলেন, মন্ত্রিপরিষদে এসব নিয়ে আলোচনা আছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কারা নতুন যুক্ত হচ্ছেন, কিংবা কবে ঘোষণা হবে তা বলা যাচ্ছে না।

বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ ও বাজেট ব্যস্ততার কারণে এই মুহূর্তে না হলেও ঈদের পর মন্ত্রিসভার কলেবর বাড়তে পারে। প্রধানমন্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী মন্ত্রিসভার আকার বড় হতে পারে। দফতরও রদবদল হতে পারে। শিগগির এই ঘোষণা আসতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এমপি বলেন, এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি। এটা দলের চেয়ারম্যান ও সরকার প্রধান তারেক রহমানই ভালো বলতে পারবেন। তিনি কখন কাকে নেবেন, কোথায় দেবেন এটা তার (প্রধানমন্ত্রীর) এখতিয়ার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কোনো মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অধীনে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকায় তারা কাজ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন। ফলে কাজে আরও গতি আনতে এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় এই ঘোষণা আসতে পারে।

আলোচনায় যারা : বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে বর্ধিত মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। তিনি এর আগে বিএনপি সরকারের সময় কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। সংরক্ষিত এমপি সেলিমা রহমানও পেতে পারেন পূর্ণ মন্ত্রির দায়িত্ব। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য এর আগেও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত ছিলেন। মন্ত্রিসভায় নিয়োগ দেওয়া হলেও স্থায়ী কমিটির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ উপনেতা হিসেবে দেখা যেতে পারে। এখনও সরকারের বাইরে থাকা স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও আছেন একই আলোচনায়। এছাড়া চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য বি এম মোশাররফ হোসেনের নাম রয়েছে আলোচনায়।

নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু। প্রবীণ এই রাজনীতিক বরকত উল্লাহ বুলু পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি যুবদলের সভাপতি ও যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। খালেদা জিয়ার সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। নবম জাতীয় সংসদেরও তিনি সদস্য ছিলেন।

টেকনোক্র্যাট কোটায় ৩ জন : এখনও টেকনোক্র্যাট কোটায় ২ জনকে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে মন্ত্রিসভায়। আলোচনায় আছেন এমপি মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তাকে এখনও কোথাও নিযুক্ত করা হয়নি। তাকে ঘিরে বেশ আলোচনা রয়েছে। আলাল দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। আলোচনায় আছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন্নবী খান সোহেল। বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল হতে পারেন প্রতিমন্ত্রী। তার বাড়ি বগুড়ায়। তিনি প্রধানমন্ত্রী পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। একইভাবে আলোচনায় আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জমান দুদু। তিনিও মনোনয়নবঞ্চিত ছিলেন। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহিদুর রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে।


বর্তমান মন্ত্রিসভা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ বড় দু-তিনটি মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ এসব মন্ত্রণালয়ে অতীতে একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপমন্ত্রী দেখা গেছে। যেমন অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়; নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়; শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

গুরুত্বপূর্ণ এসব মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। এ জন্য সবশেষ ৮ জন প্রতিমন্ত্রীর দফতর পুনর্বিন্যাস করে কাজের পরিধি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অন্য প্রতিমন্ত্রীর কাজের চাপ কমানো হতে পারে।

২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় ২৮ জন মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী ও চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় প্রথম দফায় খালেদা জিয়া ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন। পরে প্রয়োজন অনুসারে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ জনে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.