সিলেটটুডে ডেস্ক | ১২ মে, ২০২৬
আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৮ বছরের চাকরি জীবনে পদবঞ্চনা, বৈষম্য, অপমান ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়া সত্ত্বেও জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে একচুল পরিমাণ বিচ্যুত হননি বলে দাবি করেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
সোমবার পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এক অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্যে এমন দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যের শুরুতে রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ‘প্রায় ২৯ বছরের চাকরি জীবনে এই প্রথমবার আপনার (প্রধানমন্ত্রী) কার্যালয়ে আসার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। জীবনে দীর্ঘ বঞ্চনা, কষ্ট, অপমান আর অপেক্ষার ইতিহাসের বিপরীতে আজকের মুহূর্তটি আমার কাছে সুন্দরতম প্রাপ্তি।
রেজাউল করিম মল্লিক তার শৈশব স্মৃতির কথা তুলে ধরে বলেন, ‘সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় মাদারীপুরের শিবচরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে ধানের শীষের মালা পরিয়ে বরণ করার সুযোগ হয়েছিল।’ সেই মুহূর্তকে জীবনের অন্যতম সৌভাগ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
রেজাউল করিম মল্লিক জানান, ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে আরও কয়েকবার জিয়াউর রহমানের সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ হয় তার। সর্বশেষ ১৯৮১ সালের ২৫ জানুয়ারি আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জুনিয়র ক্যাডেট কোর ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে শহিদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে করমর্দন করে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়ার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।
ডিআইজি রেজাউল করিম বলেন, ‘সেদিনের অনুভূতি ছিল এমন, যেন আমি বিশ্ব জয় করেছি। কিন্তু কয়েক মাস পরই ৩০ মে সেই বিষাদময় সংবাদ শুনতে হয়। নিজেকে আর স্থির রাখতে পারিনি, কান্নায় ভেঙে পড়েছিলাম।’
রেজাউল করিম মল্লিক জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে চাকরিজীবনের শুরুতেই বৈষম্যের শিকার হন। ১৯৯৮ সালে চাকরিতে যোগদানের মাত্র ১৭ মাসের মাথায় তৎকালীন সরকার তার ব্যাচের মধ্যে শুধু তাকেই অব্যাহতি দেয়। পরবর্তী সাড়ে চার বছর তাঁকে অপমান, অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে কাটাতে হয়েছে।
ডিআইজি জানান, সেই সময় সমাজ, আত্মীয়স্বজন এমনকি নিজের পরিবারের কাছেও নিজেকে অসহায় মনে হতো। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপে তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন।
বক্তব্যে তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জীবনের কঠিন সময়ে প্রয়াত খালেদা জিয়ার একটি আশ্বাস কিংবা স্নেহমাখা বাক্য তাকে নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি জুগিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রেজাউল করিম বলেন, ‘আজ আপনার সামনে এসে মনের গভীরে জমে থাকা স্মৃতিগুলো ব্যক্ত করেছি। আমার ভুলত্রুটি মার্জনা করার জন্য বিনীতভাবে আবেদন করছি।’
এদিকে সোমবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত হবে না। আমার বক্তব্য স্পষ্ট, পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। অতীতে একটি ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের স্বার্থে পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে এখন জনগণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করাই পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’