সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৫ মে, ২০২৬
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৩টিতেই জয় পেয়েছেন বিএনপি-সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেলের (নীল প্যানেল) প্রার্থীরা। আর সদস্যের একটি পদে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটের আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের (সবুজ প্যানেল) প্রার্থী।
ঘোষিত ফলাফল অনুসারে, নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন ২ হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের আবদুল বাতেন ৭৮৮ ভোট পেয়েছেন।
গত বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে মাঝখানে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোট গ্রহণ। ভোট গ্রহণ শেষে রাত ১০টার দিকে গণনা শুরু হয়। গণনা শেষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে গতকাল দিবাগত রাত ২টার দিকে নির্বাচন পরিচালনা-সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ফলাফল ঘোষণা করেন।
এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে ৪০ জন প্রার্থী হন। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোট পৃথকভাবে পূর্ণ প্যানেলে প্রার্থী ঘোষণা করে। তবে এনসিপি পৃথক প্যানেলে ৬ পদে প্রার্থী দেয়। এবার ১১ হাজার ৯৭ ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৪৮ জন ভোট দেন। ঘোষিত ফলাফলে নীল প্যানেল থেকে সম্পাদক পদে ২ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে মোহাম্মদ আলী জয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার ৭৮৬ ভোট পেয়েছেন।
নীল প্যানেল থেকে সহসভাপতি পদে মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. জিয়াউর রহমান, সহসম্পাদক পদে মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল বিজয়ী হয়েছেন।
সাতটি সদস্য পদের মধ্যে ছয়টি পেয়েছে নীল প্যানেলের প্রার্থীরা। তারা হলেন এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, এ কে এম আজাদ হোসেন, ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী, মো. কবির হোসেন, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া ও মো. টিপু সুলতান। সদস্য পদে সবুজ প্যানেলের আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী নির্বাচিত হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবার প্রায় দুই বছরের মাথায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থক আইনজীবীরা মনোনয়ন জমা দিলেও বাছাইয়ে তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের লিখিত আবেদন ও সাধারণ আইনজীবীদের আপত্তির কারণে আওয়ামী লীগ-সমর্থক আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। ফলে নির্বাচন বর্জন করেন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা, যার প্রভাব পড়ে ভোটে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে আইনজীবীদের উপস্থিতি ছিল বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক কম। ১১ হাজার ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে দুই দিনে ভোট দিয়েছেন ৪ হাজার ৪৮ জন; ভোট পড়ার হার ৩৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
২০২৪ সালের ওই নির্বাচনে ১৪ পদের মধ্যে সভাপতি ও সদস্যের তিনটি পদসহ চারটিতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা জয়ী হন। আর সহসভাপতির দুটি পদ, সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও সহসম্পাদকের দুটি পদ এবং সদস্যের চারটিসহ ১০টি পদে জয় পান আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীরা।