Sylhet Today 24 PRINT

শাহ আলীর মাজারে হামলা: পুলিশ বলছে ‘জামায়াত-শিবির’, জামায়াত বলছে ‘পুলিশের অভিযান’

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৫ মে, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী বোগদাদীর মাজারে ওরশ চলাকালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা পুলিশ ও জামায়াতের পক্ষ থেকে একে অন্যকে দায়ী করে বক্তব্য পাওয়া গেছে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে ওই হামলার শিকার জিয়ারতকারী কয়েকজন বলছেন, হামলাকারীরা 'জামায়াত-শিবিরের' লোক।

ওই এলাকায় জামায়াত থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান) দাবি করেছেন, সেখানে তার দলের কোনো লোক ছিল না, যা ঘটেছে তা ‘পুলিশের মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ অংশ।

এদিকে, পুলিশ কর্মকর্তারাও ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। প্রতিবেদন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের। 

দারুস সালাম জোনের সহকারী কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুল বলেন, "মাজারে আমরা অভিযান চালাইনি। রাতে যেটা দেখলাম যে জামায়াত-শিবিরের পোলাপান মনে হয় ব্যক্তিগত উদ্যোগে অভিযান চালিয়েছে। গত সপ্তাহে বিএনপি থেকে মিরাজ যেমন নিজ উদ্যেগে অভিযান চালিয়েছিল কালকে মনে হয় জামায়াত শিবির নিজ উদ্যোগে অভিযান চালিয়েছে। এখানে পুলিশের কোনো ইনভল্ভমেন্ট নেই। "

পুলিশ সেখানে গিয়েছিল কি না সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে তিনি বলেন, "না না না, একটা পলিটিক্যাল পার্টির সাথে আমরা কীভাবে অভিযান করব!"

সহকারী কমিশনার বিপুল বলেন, "অভিযান করেছে তারাই (জামাত-শিবির), আমরা ভেতরে ঢুকিনি।"

পুলিশ বাইরে ছিল কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "বাইরেও থাকিনি আমরা। আমরা দেখছি যে একটি ঝামেলা... আপনাকে ক্লিয়ারকাট বলি, কোনো পলিটিক্যাল পার্টির সাথে এনগেজ হয়ে অভিযান করার মত সুযোগ নেই আমাদের। যখন আমরা আঁচ করতে পেরেছি যে এরকম একটা অভিযান উনারা (জামায়াত- শিবির) করবে, তখন আমরা আজকে কোনো অভিযান করব না বলে সিদ্ধান্ত নিই। তখন আমরা আমাদের মত ব্যাক আর কি।"

তবে শাহ আলী থানার ওসি বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, "ঘটনা হচ্ছে রওজার পূর্ব পাশে যেখানে শুক্রবারে নামাজ পড়ে, সেই জায়গায় বাইরে থেকে আসা কিছু মহিলা ও পুরুষ মাদুর বিছিয়ে গাঁজা সেবন করতে বসেছিল। তখন মাজারের জিয়ারতকারীরাই তাদের সেখান থেকে সরিয়ে মাজার প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেয়।"

ওসি বলেন, "এটুকু ঘটনাই আমরা পাইছি। আমি গেছিলাম, আমার অফিসার গেছিল। শুক্রবারে জুম্মার নামাজ যে জায়গাটায় হয় সেখানে বসে কেউ গাঁজা খায় না। কিন্তু গতরাতে সেখানেও গাঁজা খাওয়ার আসর বসানো হয়েছিল। সে কারণে জিয়ারতিরাই তাদের সরিয়ে দেয়। পুলিশের এখানে কোনো রোল নেই।"

মিরপুর এলাকার সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার আরমান ঘটনার সঙ্গে তার দলের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। শুক্রবার সকালে তিনি বলেন, সেখানে যা ঘটেছে সেটা ‘পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানের ফলাফল’।

তিনি বলেন, "পুলিশ থেকে আমাকে জানানো হয়েছে সেখানে প্রতিদিন রাতে গাঁজার আসর বসে, বৃহস্পতিবার রাতে অনেক মাদকসেবীর আড্ডা হয়। এখানে একটা বড় অভিযান চালানো হবে। এতটুকুই আমাকে জানানো হয়েছিল।"

সেই অভিযানে জামায়াতের লোকজন বা স্থানীয় লোকজনের অংশগ্রহণ ছিল কিনা এমন প্রশ্নে এই সংসদ সদস্য বলেন, "না। ব্যাপারটা হচ্ছে একটা ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এরকম অবৈধ অশ্লীল কাজে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত।

“আমার নির্বাচশি ইশতেহারের সবচেয়ে বড় ওয়াদা ছিল মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সেজন্য আমরা পুলিশকে বারবার বলেছি, পুলিশ ও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় রয়েছে। এখানে বৃহস্পতিবারে যা ঘটেছে তা প্রাইমারিলি মাদককেন্দ্রিক অ্যাক্টিভিটিজ। বৃহস্পতিবার রাতে এখানে সবচেয়ে বেশি মাদক বেচা বিক্রি হয় এবং প্রকাশ্যে হয়, সেজন্য পুলিশ অ্যাকশন নিয়েছে।"

তবে চব্বিশের ৫ অগাস্টের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাজার ও সুফি দরগায় হামলা ও ভাঙচুরের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতের ওই হামলা হল কিনা, তা নিয়ে আতঙ্কিত ওই মাজারের অনুসারীরা। তারা বলছেন, আগের সপ্তাহেও যুবদলের লোকেরা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সেখানে হামলা চালিয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে মাজার জিয়ারত করতে আসা লোকজন বলছেন, হামলাকারীরা মাজারের ভেতর পর্যন্ত গিয়ে লোকজনকে মারধর করেছে।

আব্দুস সবুর নামে একজন বেসরকারি চাকুরে বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে মাজারে একটি সাপ্তাহিক ওরশ হয়। সেখানে ঢাকা এবং দেশের নানা প্রান্ত থেকে লোকজন আসে। বৃহস্পতিবার রাতে সেই ওরশ চলাকালে হঠাৎ লাঠিসোঁটা হাতে কিছু লোক এসে জিয়ারতকারীদের মারধর শুরু করে। পুলিশ সাদা পোশাকে এখানে অভিযান চালিয়েছে কি না প্রশ্ন করলে উপস্থিত বেশ কয়েকজন সমস্বরে ‘না’ ‘না’ বলে ওঠেন। তাহলে কারা হামলা চালিয়েছে জানতে চাইলে পাশ থেকে একজন বলেন, “সব জামায়াতের লোক।”

২০২৪ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে মাজার-খানকায় হামলা শুরু হয়। ওই সময় থেকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ৯৭টি মাজারে হামলার তথ্য দিয়েছে সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.