Sylhet Today 24 PRINT

সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও রুপার মুক্তির দাবি জানাল সিপিজে

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৬ মে, ২০২৬

একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপার মুক্তির দাবি করেছে ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’-সিপিজে।

২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে ‘হত্যাযজ্ঞ’ চালানোর অভিযোগে করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর পর দিন শুক্রবার সিপিজে এ দাবি জানাল।

শাপলা চত্বরের ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে আগামী ৭ জুন তারিখ রেখেছে আদালত। মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিকেও।

সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কুনাল মজুমদার বলেন, “কোনো বিতর্কিত রাজনৈতিক ঘটনার সংবাদ কভারের ক্ষেত্রে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনোভাবেই মানবতাবিরোধী অপরাধ নয়। সাংবাদিকদের শাস্তি দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের কাঠামোর ব্যবহার বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার বা সুরক্ষা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার শামিল। এটি একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কনভেনশনেরও লঙ্ঘন।”

তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের নিশানা বানাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করা উচিত। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে মুক্তি দেওয়া।”

সিপিজের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী শাপলা চত্বরের ঘটনার পর একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে ফারজানা রুপা ‘বিতর্কিত ব্যক্তিদের’ বক্তব্য ব্যবহার করেন এবং ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’ ছড়ান, যা সেই সাঁড়াশি অভিযানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো থেকে মানুষের ‘নজর সরিয়ে’ দেয়।

আর মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ওই প্রতিবেদনের সম্প্রচার কার্যক্রম তদারকি করেন। প্রধান প্রসিকিউটর একে শাপলা চত্বরে নিহতের ‘প্রকৃত সংখ্যা গোপন করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সিপিজে বলেছে, “শাপলা চত্বরের অভিযানের সময় বা আগে-পরে একাত্তর টিভির সম্প্রচারগুলো সিপিজে স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে ২০১৩ সালে ব্যাপকভাবে প্রচার হওয়া ফারজানা রুপার উপস্থাপনার একটি ইউটিউব তথ্যচিত্রে সিপিজে পর্যালোচনা করেছে।

“সেই তথ্যচিত্রে অভিযান পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল, হতাহতের সংখ্যা নিয়ে করা দাবিও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। এর মধ্যে এমন ব্যক্তিদেরও খুঁজে বের করা হয়, যাদের নাম নিহতের তালিকায় থাকলেও পরবর্তীতে তাদের জীবিত পাওয়া যায়।”

সাংবাদিক বাবু ও রূপাকে গ্রেপ্তারের পর ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ১১ মে হাই কোর্ট রূপাকে ছয়টি মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাসহ অন্যান্য অভিযোগ বিচারাধীন থাকায় তিনি এখনো কারাগারে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.