Sylhet Today 24 PRINT

আমরা জুলাইযোদ্ধা না, জীবনেও গণভবনে যাইনি: কারিনার মা

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৮ মে, ২০২৬

‘আমরা জুলাইযোদ্ধা না, মানবযোদ্ধা’-এমন মন্তব্য করেছেন অকাল প্রয়াত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের মা লোপা কায়সার। একইসঙ্গে তিনি বা তার পবিবারের কেউ গণভবন থেকে কিছু চুরি করেননি বলেও দাবি করেছেন লোপা।

রোববার (১৭ মে) রাতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে কারিনার জানাজার আগে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্যকালে তিনি এমনটি বলেন।

১৫ মে রাতে লিভার সংক্রান্ত জটিলতার কারণে চেন্নাইয়ের ভেলোরে অবস্থিত খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় কারিনা কায়সারের।

কারিনাকে জুলাইযোদ্ধা আখ্যা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা রোববার তার জানাযায় অংশ নেন। কানিরার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিও প্রদান করে এনসিপি।

অপরদিকে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধিন সরকার পতনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে ‘লুটপাটে’ কারিনাও অংশ নেন বলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে আসছেন।

এসব প্রসঙ্গে রোববার কানিরার জানাযার আগে কথা বলেন তার লোপা কায়সার।

জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে লোপা বলেন, আমরা জুলাইযোদ্ধা না, আমরা মানবযোদ্ধা। জুলাইয়ে যে ঘটনাগুলো হয়েছে আপনারা সবাই প্রতিহত করেছেন। কারণ এই জিনিসগুলা কারো ভালো লাগে নাই।

তিনি বলেন, আমরা কোনদিনও গণভবনে যাই নাই। আমি, ওর বাবা কেউই যাই নাই। আমি মেয়েকে নর্থ সাউথে পড়াই, আমার কোন দরকার নেই, এটা ভাঙা জিনিস চুরি করে নিয়ে আসবো’।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ভাইরাল একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেদিন সেলিব্রেশন হচ্ছিলো। আমাদের সামনে দিকে অনেক মানুষ যাচ্ছিলো- কারো হাতে হাঁস, ল্যাপটপ, ভাঙা চেয়ার- সবাই গণভবন থেকে নিয়ে আসছিলো এসব। তখন সে (কারিনা) আমাকে বলে, ‘তুমি যদি একটা বাসা থেকে কিছু নিয়ে আসতা’।

লোপা বলেন, তখন আমি হাতে থাকা আমার ব্যাগ দেখিয়ে বলি, ‘আছে তো, এরই তো আমার ব্যাগ, এই তো চিরুণি।’

এ নিয়ে মানুষ মন্দ কথা বলছে জানিয়ে লোপা আরও বলেন, আমাদের এই ফান ভিডিওটা পাবলিক হয়ে গেছে। মানুষ অনেক অনেক নেগেটিভ কথা বলে। আমার স্বামী অনেক বিখ্যাত একজন মানুষ। আমার শাশুড়ি এই দেশের সম্পদ। আমার শশুড়ও জাতীয় পাদকপ্রাপ্ত মানুষ। আমাদের তো এই শিক্ষা, এই ব্যাকগ্রাউন্ড কখনো ছিলো না যে, চুরি করতে হবে। সবাই সেলিব্রেশন করছিলো, আমরাও সেলিব্রেশন করছিলাম।

কারিনার মা বলেন, এই নিয়ে আপনাদের মনে যদি কোন ভুল বুঝাবুঝি থাকে, আমি আজকে ক্লিয়ার করে দিলাম। আপনারা সবাই কারিনার জন্য দোয়া করবেন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ মে রাত থেকে দেশে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন কারিনা। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেশের বাইরে নেওয়ার পরিকল্পনা করে তার পরিবার। পরে ১১ মে রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে চেন্নাই নেওয়া হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুরুতে কারিনার জ্বর হয়। পরে শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ জটিলতায় লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় কারিনাকে।

হাস্যরসাত্মক কনটেন্ট ক্রিয়েটের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই নেটিজেনদের মধ্যে পরিচিতি লাভ করেন কারিনা। অভিনয়ও করেছেন। পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিতি পান।

কারিনার প্রথম জানাজা বনানী ডিওএইচএস মাঠে বাদ মাগরিব, দ্বিতীয় জানাজা বনানী দরবার শরিফে বাদ এশা ও তৃতীয় জানাজা শহিদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার মুন্সিগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে চতুর্থ জানাজা শেষে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.