সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৪ মে, ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে অংশ নিতে তিন ক্যাটাগরিতে ৩৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে শুধু গোপালগঞ্জের জসিম উদ্দিন খসরুর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তার আজ আপিল করার সুযোগ থাকছে।
বাকি ৩২ প্রার্থীর মধ্যে কেউ ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য, কেউ সরকারনিযুক্ত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক, কেউ মন্ত্রীদের স্বজন কিংবা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। কেউবা আবার অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবালের আত্মীয়।
আবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সাতজনই আছেন চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকায়। আগেও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব ছিল বিসিবিতে, তবে এবার যেন ছাড়িয়ে যাচ্ছে অতীতের সব রেকর্ড।
ক্যাটাগরি-১ (আঞ্চলিক ও জেলা ক্রিকেট)
ক্যাটাগরি-১ থেকে ১০ পরিচালকের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ১৩ জন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হচ্ছেন ঢাকা, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ৫ পরিচালক। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে।
রংপুর বিভাগ থেকে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই মির্জা ফয়সল আমীন হয়েছেন একমাত্র প্রার্থী।
একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ছেলে মীর শাকরুল আলম রাজশাহী থেকে একমাত্র প্রার্থী।
সিলেট বিভাগের পরিচালক হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাওয়া আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনে সরকার নিযুক্ত প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি।
গোপালগঞ্জের প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় ঢাকা বিভাগ থেকে বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ছেলে সাইদ বিন জামান ঢাকা বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে।
চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া মাঈন উদ্দিন চৌধুরী পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির চাচা। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এবং শরীফুল ইসলাম অপু।
খুলনা বিভাগের প্রার্থী শান্তনু ইসলাম সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামের বড় ছেলে এবং বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলামের ভাই। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন খুলনার শফিকুল আলম ও আব্দুছ ছালাম। শফিকুল আলম বর্তমানে খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
বরিশাল বিভাগে একটি পদের বিপরীতে দুজন প্রার্থী। ভোলার মুনতাসির আলম চৌধুরী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব। আর মিজানুর রহমানের রাজনৈতিক পরিচয় না থাকলেও তিনি তামিম ইকবালের সাবেক ফ্র্যাঞ্চাইজি ফরচুন বরিশালের স্বত্বাধিকারী। তামিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত তিনি।
ক্যাটাগরি-২ (ঢাকা মহানগর ক্লাব)
ঢাকার ক্লাবগুলোর ক্যাটাগরির ১২ পরিচালক পদের বিপরীতে প্রার্থী ১৮ জন। বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু (অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে) এক্সিউম ক্রিকেটার্স ক্লাব থেকে, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে) ফেয়ার ফাইটার্স স্পোর্টিং ক্লাব, মির্জা ইয়াসির আব্বাস (প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের ছেলে) আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব থেকে প্রার্থী হয়েছেন।
অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবালের ক্লাব ওল্ড ডিওএইচএস। আবাহনী থেকে ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন। বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য জি এম সিরাজের ছেলে আসিফ রব্বানী প্রার্থী হয়েছেন শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব থেকে।
ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে প্রার্থী হয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আগের বোর্ডের চার পরিচালক। চারজনই বুলবুলদের বোর্ড ভাঙার কিছুদিন আগে পদত্যাগ করেছিলেন। তাদের মধ্যে আছেন ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল, যিনি আগের বোর্ডের এনএসসি মনোনীত পরিচালক ছিলেন। ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব থেকে কাউন্সিলর হওয়া ফয়সালের বাবা আবুল কালাম কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য। বুলবুলদের বোর্ডে থাকা ফৈয়াজুর রহমান, আমজাদ হোসেন ও শানিয়ান তানিম প্রার্থী হয়েছেন ক্যাটাগরি ২ থেকে।
ক্যাটাগরি-৩ (অন্যান্য প্রতিনিধি)
এই ক্যাটাগরি থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ও সাবেক পরিচালক সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর, যিনি তামিম ইকবালের ফুফা।