সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৬ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-সহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এলভিনো জাতের মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’–কে রাজসিক বিদায় দিয়েছে খামার কর্তৃপক্ষ।
গতকাল সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে লালগালিচা বিছিয়ে, রঙিন ধোঁয়া উড়িয়ে ও রাজকীয় সাজে মহিষটিকে বিদায় দেওয়া হয়।
খামার সূত্রে জানা যায়, সামির নামে রাজধানীর জিনজিরা এলাকার একজন বাসিন্দা আগে থেকেই মহিষটি কিনে রেখেছিলেন। গতকাল বিকেলে তিনি সেটি নিতে এলে খামার কর্তৃপক্ষ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ সময় খামারের কর্মচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়।
দুপুর থেকেই খামারের কর্মীরা ৭০০ কেজি ওজনের মহিষটিকে গোসল করিয়ে সাজানোর প্রস্তুতি নেন। পরে মাথায় বিশেষ সাজসজ্জা ও গায়ে রাজকীয় পোশাক পরিয়ে লালগালিচার ওপর দিয়ে হাঁটিয়ে গাড়িতে তোলা হয়।
রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধা বলেন, ‘মহিষটিকে আমরা লালন–পালন করেছি। এটি ভাইরাল হয়েছে, রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্ম সারা বিশ্বে প্রচার পেয়েছে। ওকে বিদায় দিতে কষ্ট লাগছে। তবে কোরবানির পশু তো ত্যাগের জন্যই। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমরা আজীবন মনে রাখব।’
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, এলভিনো জাতের মহিষটির চুলের ধরন অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায় আদর করে এর নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে এটি আলোচনায় আসে।
খামার সূত্র আরও জানায়, মহিষটি প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিদিন শত শত মানুষ মহিষটি দেখতে খামারে ভিড় করেন। শুধু নারায়ণগঞ্জ বা ঢাকা নয়, বরিশাল, কুমিল্লাসহ দূরদূরান্ত থেকেও দর্শনার্থীরা এসেছেন। অনেকে কিনতে না পেরে হতাশাও প্রকাশ করেন।
এদিকে মহিষটি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আগ্রহ দেখা যায়। রয়টার্স, দ্য টেলিগ্রাফ, নিউইয়র্ক পোস্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে মহিষটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
খামারের কর্মচারী কাউসার বলেন, ‘বাংলাদেশে এর আগে কোনো কোরবানির পশু এভাবে ভাইরাল হয়েছে কি না, জানি না। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমরা কখনো ভুলব না। ওর প্রতি আমাদের অন্য রকম মায়া তৈরি হয়েছে।’
মহিষের ক্রেতা পুরান ঢাকার জিঞ্জিরা এলাকার বাসিন্দা মো. সামির বলেন, ‘অনেক আগেই রাবেয়া অ্যাগ্রো থেকে লাইভ ওয়েটে মহিষটি কিনেছিলাম। পরে এটি ভাইরাল হওয়ার খবর পাই। এটার অনুভূতি অন্য রকমের। আমাদের এলাকার সবাই মহিষটিকে দেখার জন্য অপেক্ষা করছে।’