সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৭ মে, ২০২৬
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে অন্তত ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৭ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) গ্যাস লিকেজ থেকে একটি ওয়ার্ডে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ভোর রাতে দিকে ঘটনাটি ঘটেছে।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনন্ত ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে শিশুদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে, আমিও সেখানে যাচ্ছি।’
যা বলছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
একসঙ্গে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের মহাপরিচালক (হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিং) অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, যে ওয়ার্ডে এই দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হয়েছে; সেখানে ১১ জন মা ছিলেন আর সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু ছিলেন ছয়জন। হয়তো তাদের বয়স এক থেকে দুইদিন।
তিনি আরও বলেন, সেই ওয়ার্ডটিতে সিজারের পর সবসময়ই মা-বাচ্চাদের রাখা হয়। এছাড়া তাদের সঙ্গে আরও একজন সেখানে থাকতে পারেন। যেহেতু এটা এসি ওয়ার্ড অনেক সময় ঠাণ্ডা থাকে। এখানে রোগী ও তার সজনরা প্রায়ই অতিরিক্ত ঠাণ্ডা লাগলে সিস্টারকে এসি বন্ধ করতে বলেন; এটা প্রায়ই হয়ে থাকে।
অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন বলেছেন, হঠাৎ করে দুটি শিশু অসুস্থ বোধ করলে। তাদেরকে হাসপাতালের নিউ নেটাল আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। রাত তিনটার পরে। সেখানে ডাক্তাররা তাদের দেখার পর বলেছেন- যে শিশুরা ভালো আছে। এরপর তাদের ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে বলা হয়।
তিনি আরও বলেন, ভোর ৬টার পর হঠাৎ দায়িত্বরত নার্স দেখেছেন এবং মায়েরাও বলেছেন যে তাদের বাচ্চারা অনেক অসুস্থ বোধ করছে। ওইসময় ছয় বাচ্চাকেই নিউ নেটাল আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর তারা দুইজন বাচ্চকেই মৃত অবস্থাতে পায়। আর বাকি চার বাচ্চাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখে তাদের ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রেখেছিল। সেখানে তারা অনেক চেষ্টা করেছে। তবে পরবর্তীকালে সেই চার বাচ্চাকেও বাঁচানো যায়নি।