Sylhet Today 24 PRINT

আমি শুধু রামিসারে টুকরো করেছি, ধর্ষণ করেছে ও মারছে ডলার: সোহেল রানা

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০১ জুন, ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এবার মিরপুরের ডলার নামে এক ব্যক্তির ওপর দায় চাপালো প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা।

সোমবার (১ জুন) আদালত চত্বরে প্রধান আসামি সোহেল সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি শুধু বাচ্চারে (রামিসা) দুই টুকরো করেছি। ধর্ষণ করছে ডলার, মারছে ডলার।'

সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। শুনানি শেষে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন সোহেল।

এর আগে, সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আর স্বপ্নাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে তাদের এজলাসে তোলা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করে বলেন, 'শিশু রামিসা আক্তারকে বাসায় ডেকে নিয়ে বাথরুমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। তাকে বেঁধে নির্যাতনের একপর্যায়ে রামিসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে আসামি তাকে মৃত ভেবে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে শরীর থেকে গলা কেটে আলাদা করে। একই সঙ্গে বাথরুমের ভেতরেই তার হাত-পা বিচ্ছিন্ন করা হয়।'

শুনানিতে তিনি আরও বলেন, 'ঘটনার দিন ভুক্তভোগীর মা রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য ডাকাডাকি করলে তাকে খুঁজে পাননি। পরে একটি জুতা দেখতে পেয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় আশপাশের লোকজন জড়ো হন। ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের দরজা খুললেও আসামিদের ফ্ল্যাটের দরজা না খোলায় সবার মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে জানালা দিয়ে একজন ফ্ল্যাটের ভেতরে রক্ত দেখতে পান। এরপর দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, আসামি সোহেল রানা পালিয়ে গেছেন। তার স্ত্রী তখন উপস্থিত লোকজনকে জানান, তার স্বামী এমন ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গেছেন।'

এরপর আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, 'তড়িঘড়ি করে মামলার তদন্ত শেষ করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও উপস্থাপন করতে পারেনি।'

আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে আপত্তি জানান তিনি।

উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক সোহেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান। আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলতে চান সোহেল রানা। তবে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

পরে অপর আসামি স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও পড়ে শোনানো হয়। এরপর বিচারক স্বপ্না আক্তারকে নিজেকে দোষী মনে করেন কি না জানতে চাইলে তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। তখন তিনি তার স্বামী সোহেল রানাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'তুমি বলো আমি দোষী কি না।'

এ সময় সোহেল রানা আদালতে স্বপ্নাকে নির্দোষ দাবি করেন।

শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। পরে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারক।

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সোহেল উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন। আমি পাপ করেছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দেন। মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ডলার তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে।'

এরপর পুলিশ সদস্যরা তাকে থামিয়ে দেন।

আদালত থেকে নেওয়ার পথে সোহেল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'মিরপুর-১১ নম্বর লাইনে বাড়ি ডলারের। রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার মূল আসামি ওই ডলার। ধর্ষণও ডলার করছে, মারছেও ডলার। ওরে ধরেন, আপনারা (সাংবাদিকরা) সব পাবেন।'

সোহেল আরও বলেন, 'আমার স্ত্রী আমাকে সাহায্য করেনি। আমার ওয়াইফের কোনো দোষ নাই। দোষ ডলারের আছে। আমার দোষ আছে, ডলারেও দোষ আছে। আমি অত অপরাধী না। আমি শুধু বাচ্চারে দুই টুকরো করেছি। ধর্ষণ করছে ডলার, মারছে ডলার। আমার কোনো ডিএনএ টেস্ট নেয়নি। অটোমেটিক নিয়ে নিছে। ডলার আমাকে দুই লক্ষ টাকা দিছে। ডলার অনেক ধনী লোক, টাকাওয়ালা।'

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.