সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৪ জুন, ২০২৬
আসামি সোহেল রানা
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হলো। মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শেষ হয়েছে।
যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন। শিশুটিকে হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে গত ১৯ মে।
বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিচারক মাসরুর সালেকীন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে আসেন।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্ক শুরু করেন। বেলা ১টা ৩৬ মিনিটে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ আদেশ দেন।
সকাল ৯টার দিকে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে। পরে বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে তাঁকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আসামি স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয় বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পিটার গোমেজ জানান, আসামি স্বপ্না আক্তার অসুস্থ থাকায় তিনি হাসপাতাল থেকে এসেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আসামি সোহেল রানাকে দোষী সাব্যস্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। সোহেলের অপরাধে সহযোগিতা ও বাধা না দেওয়ার বিষয় উল্লেখ করে আসামি স্বপ্না আক্তারের আইনানুগ শাস্তির দাবি জানান। তিনি আদালতে শিশুর বাবা ও মায়ের সাক্ষ্য পড়ে শোনান। পরবর্তী সময় তিনি আদালতে ভুক্তভোগীর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, পাশাপাশি ফ্ল্যাটেই ঘটনার শিকার ও আসামিদের বসবাস ছিল। ঘটনার দিন ওই শিশুকে আসামি তার ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ করেন ও নৃশংসভাবে হত্যা করেন। ১৬ জন সাক্ষী এই সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ওই ফ্লোরে আর কোনো পরিবারের বসবাস ছিল না। এখানে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পুরো সময় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বাসার ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন। বাইরে থেকে দরজা খুলতে বললে স্বপ্না ভেতর থেকে শিশু নেই বলে জানান।
আইনজীবী আরও বলেন, ঘটনার দিন প্রত্যক্ষদর্শী আবু শামা আসামি সোহেলকে ভবনের তিনতলা থেকে জানালায় পা দিয়ে নামতে দেখেন। এতে প্রমাণিত হয়, সোহেল রানা ওই শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যা করে জানলার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। আইনজীবী সুরতহাল প্রস্তুতকারী কনস্টেবলের সাক্ষী তুলে ধরে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করেন।
জবানবন্দিতে আসামি সোহেল রানার দেওয়া বর্ণনা আদালতে পড়ে শোনান আইনজীবী। আসামি তার জবানবন্দিতে কোথাও ডলার নামে কারও কথা উল্লেখ করেননি বলেও জানান তিনি।