সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৮ জুন, ২০২৬
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের উন্মুক্ত করতে সরকার কাজ করছে। আশা করা যায় দ্রুত দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো শুরু হবে।
সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাকের প্রশ্নে মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে এই উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের ৩১ মে পর্যন্ত নয় লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী চাকরি নিয়ে বিদেশ গিয়েছেন। আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ বা সংকুচিত শ্রমবাজার মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত আছে। কর্মী পাঠাতে ১৮ দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বিদেশে নামমাত্র কোম্পানি খুলে ভুয়া চাহিদাপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে বলে স্বীকার করে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নুরুল হক নুর বলেছেন, প্রতারণা ঠেকাতে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর আরও কঠোর নজরদারি ও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন।
নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। হান্নান মাসউদ বলেন, অনেক কর্মী বিদেশ গিয়ে কাজ পাচ্ছেন না এবং মানবেতর অবস্থায় পড়ছেন। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে বাংলাদেশিরা অথবা ওই দেশের মালিকপক্ষের সঙ্গে মিলে নামমাত্র কোম্পানি খুলে এখান থেকে লোক নিয়ে যাচ্ছে। ১০ জনের কাজের জায়গায় ১০০ কর্মী নিচ্ছে।
ময়মনসিংহ-৬ আসনের এমপি কামরুল হাসান মিলন জানতে চান বিদেশগামী দরিদ্র কর্মীদের জন্য বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে কি না। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৮ শতাংশ সুদে জামানতবিহীন তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ঋণ পাঁচ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাশিয়া যুদ্ধে কর্মী পাঠানোর অভিযোগ
প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাশিয়ায় ৩০ জনকে কাজের কথা বলে যুদ্ধক্ষেত্রে কর্মীকে পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে জড়িত তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়ানো অনেক বাংলাদেশি তৃতীয় দেশ হয়ে সেখানে গেছেন।
জুলাই আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকার স্বীকৃতি
গাজীপুর-৫ আসনের এমপি ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকি নিয়ে যে প্রবাসীরা জুলাই অভ্যুত্থানে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন, তাদের অবদান সরকার স্মরণ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কয়েকজনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। আরও যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদেরকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মারদিয়া মমতাজ নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, যৌন হয়রানি ও চুক্তি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশের দুটি সেফ হোম রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে পর্যায়ক্রমে সেফ হোম পরিচালনা করা হচ্ছে।