সিলেটটুডে ডেস্ক | ১১ জুন, ২০২৬
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে পর্যবেক্ষক বসিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে ব্যাংকার্স সভায় বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের বৈঠকের পর সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্ত দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল আলমকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, ‘‘ব্যাংক কোম্পানি আইনের ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক মো. আশরাফুল আলকে এই দায়িত্ব দিয়েছে।”
বাংলাদেশ বাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৪৯(১)(ঘ)(আ) অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আশরাফুল আলমকে ইসলামী ব্যাংকের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ব্যাংকটির সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, ব্যাংকের স্বার্থ সংরক্ষণ, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও বৃহত্তর জনস্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষক হিসেবে আশরাফুল আলম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভাসহ প্রাসঙ্গিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন এবং ব্যাংকের কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পর্যবেক্ষণ প্রদান করবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগের এই পদক্ষেপ ব্যাংকটির কার্যক্রমে আস্থা ও শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কোরবানি ঈদের আগে ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করেন। সেদিনই নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে বেছে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ঈদের পর এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ব্যাংকটির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল ব্যক্তি। ব্যাংকের গ্রাহকদের ব্যানারে এই বিক্ষোভে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরাও অংশগ্রহণ করেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।‘গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে তখন থেকে তারা বিক্ষোভ করছেন। আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দিতে একদিন পুলিশ বলপ্রয়োগও করে।
এরপর গত কয়েকদিনে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকরা তিন হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বলে খবর আসে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা গড়ায় জাতীয় সংসদেও।
ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান বসানোর পর আলোচনার মধ্যে ফের ব্যাংকটি ‘দখলের চেষ্টা’ হচ্ছে বলে অভিযোগ তোরেন বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংকটিকে “অস্থিতিশীল করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক বসানোর সিদ্ধান্ত এল।
পর্যবেক্ষক হিসেবে আশরাফুল আলম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভাসহ প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন। তিনি পরিচালক পর্ষদ সভায় অংশ নিলেও কোনো মতামত দিতে পারবেন না। পর্ষদ চাইলে কোনো বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।
পর্ষদ সভার সূচি ও তার আনুসঙ্গিক কাগজপত্র পরিচালকদের মতো পর্যবেক্ষক আগেই পাবেন। প্রতিটি পষর্দ সভার আলোচিত বিষয় ও সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি বিভাগে নিয়মিত সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন জমা দেন পর্যবেক্ষকরা।
ব্যাংক পরিচালনায় কোনো পরামর্শ বা পর্যবেক্ষেণ থাকলে তাও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জানাতে পারেন।
পর্যবেক্ষক বসানোর সিদ্ধান্ত আসার আগে বুধবার ব্যাংকার্স সভার পর এবিবি চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘‘গভর্নর বলেছেন, ‘বিষয়টি এখন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। ‘দেখা যা কী করা যায়। কীভাবে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা করা যায়’।
“আমরা আশাবাদী যে একটা সমাধান হবে। গভর্নর সাহেবকে আজকে যেরকম দৃঢ় দেখলাম, তাতে আমরা আশা করি দ্রুত একটা সলিউশন পাওয়া যাবে।”
ইসলামী ব্যাংকে সর্বপ্রথম পর্যবেক্ষক বসানো হয় ২০১০ সালে। পর্ষদের পুরোটা চলে যাওয়ার পরে ২০২০ সালে পর্যবেক্ষক তুলে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ২০২২ সালে পর্যবেক্ষক বসায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই পর্যবেক্ষক কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অবসরে গেলে নতুন করে কাউকে পর্যবেক্ষক হিসেবে বসানো হয়নি।
পরের বছর ২০২৩ সালে ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন এস আলমের সন্তান আহসানুল আলম। চব্বিশের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে ডজন খানেক ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়। ওই সময় ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ স্বতন্ত্র পরিচালক দিয়ে সাজায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় জামায়াতে ইসলামী। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করে বলেছেন, গত নির্বাচনের সময়ে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে একটি দলের নির্বাচনে ফান্ডে টাকা দেওয়া হয়।