Sylhet Today 24 PRINT

শাওনের ‘মুখে স্কচটেপ বেঁধে রাখতে হবে’

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০২ জুলাই, ২০২৬

জুলাইবিরোধী ‘অপতৎপরতা বন্ধে’ অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জিডিপি) নামের একটি সংগঠন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানানো হয়।

সংগঠনের আহ্বায়ক নাঈম আহমেদ বলেন, “মেহের আফরোজ শাওন যে উশৃঙ্খলতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন, এখানকার যে সংহতি আছে সেটা নষ্ট করার চেষ্টা করছেন—এই অপতৎপরতা বন্ধের জন্য তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হোক এবং তাকে মানসিক চিকিৎসা দেওয়া হোক।

“যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি জুলাইয়ের পক্ষে কিংবা জুলাই বিরোধী তৎপরতা বন্ধে মুচলেকা না দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তার মুখে স্কচটেপ বেঁধে রাখতে হবে। এই ব্যাপারে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করবে এই আশা রাখছি।”

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “অসংখ্য রাজনৈতিক সমাবেশে সেখানে কিন্তু আমাদের রুমিন ফারহানা আপা তিনি অস্বাভাবিক রোল প্লে করছেন বিরোধী দলীয় একজন সংসদ সদস্য হিসেবে। কিন্তু আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে দেখেছি এই মেহের আফরোজ শাওনের সাথে তার পাবলিকলি মাখামাখি। এবং সেই মেহের আফরোজ শাওন এখন বলতেছে ‘জুলাই সিডিআই’।

তিনি বলেন, “আমরা রুমিন ফারহানা আপাকেও খুব সাবধান করে দিতে চাই। আপনি যে এখন আকাশে উড়ছেন, আপনার যে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা, আপনার এই ধরনের দুর্বৃত্তদের এবং জুলাইবিরোধী শক্তির সাথে যদি আপনি সখ্যতা পরিহার না করেন, তাহলে আপনারও অবস্থা কিন্তু ওই ভয়ানকভাবে অজনপ্রিয় অবস্থায় চলে যেতে পারে।

“বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আমাদের একই বক্তব্য। এজন্য আমরা বলব, আমরা জুলাইয়ের শক্তিগুলো এখন বিভাজিত হতে পারি, তার মানে এই নয় জুলাই বিভাজিত। জুলাই প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ। এজন্য আমরা মনে করি সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সরকার ব্যবস্থা না নিলে জনগণ ব্যবস্থা নেবে।”

মেহের আফরোজ শাওন প্রসঙ্গে নাঈম বলেন, “বর্তমান সরকারের আমলে যে তিনি দেশে ফিরেছেন এবং এই আস্ফালন দেখাচ্ছেন, তা আমরা অলরেডি বলেছি সরকারের মধ্যে কোনো না কোনো মীর জাফর রয়েছেন, যারা টাকার বিনিময়ে—বিএনপির মধ্যে ওই ঐতিহ্য রয়েছে যে টাকার বিনিময়ে অনেক কাজ তারা করেন, কিংবা কোনো বৈদেশিক শক্তির ইশারায় তারা কাজ করতে পারেন।

“ফলে বিএনপি জুলাইয়ের শক্তি, কিন্তু তাদের মধ্যে খন্দকার মোশতাকের মতো দিল্লির দোসর থাকতে পারে। তাদের ইশারায়, যারা বাংলাদেশে দীর্ঘদিন আগ্রাসন চালিয়েছে, তাদের ইশারায় এবং তাদের সঙ্গে বিএনপির মধ্যকার কোনো কোনো দালালের সহযোগিতায় মেহের আফরোজ শাওনরা দেশে ফিরেছে বলে আমরা মনে করি।”

জিডিপি আহ্বায়ক বলেন, “এজন্যই আমরা বলেছি বিএনপিতে শুদ্ধি অভিযান চালানো উচিত। বিএনপির মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা দিল্লির দালালদের উৎখাত করা উচিত। তাদেরকে বাদ দিয়ে যদি তারেক রহমান দল গঠন করতে না পারেন, এটাকে পুনর্গঠন করতে না পারেন, তাহলে আসলে তার পরিণতিও কঠিন হবে।

“তিনি দেশ পরিচালনাতেও ব্যর্থ হবেন। এজন্য আমরা মনে করছি মেহের আফরোজ শাওন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না, আমরা বারবার বলছি এজন্য এখানে নাম মেনশন করতে চাচ্ছি না বাট আমাদের শঙ্কা হচ্ছে যে ইন্টারনালি কেউ কেউ তাকে সহায়তা করছে।”

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মানবতা বিরোধী মামলার রায় প্রসঙ্গে নাঈম বলেন, “হাসানুল হক ইনুকে নিয়ে যে রায় দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট না। ইনু হাসিনার আগ্রাসনের মদদদাতা। ইনুর মত ব্যক্তিকে ১০ বছর সাজা দেওয়া—জুলাইয়ের সাথে প্রতারণা।

“ইনু সাহেব যে ৫ বছর বা ২ বছর পরে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে জামিন নিয়ে যাবেন, একজন জুলাইয়ের যোদ্ধা হিসেবে এবং জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে আমরা বলতে চাই, ইনু সাহেবের এই শাস্তির ব্যাপারে আমরা কেউ সন্তুষ্ট নই। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হওয়া দরকার।

“আমরা আদালতের উপরে বন্দুক রাখতে চাই না। তাই বলে যা ইচ্ছা তাই রায় দেবেন, এটাও এই জেনারেশন কিন্তু মেনে নেবে না।”

আওয়ামী লীগের জোট শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদসহ ১৩ দলের নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেণ জিডিপির প্রধান সংগঠক এহসান উল্লাহ, সদস্য সচিব আব্দুল আলিম।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.