সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৯ জুলাই, ২০২৬
রাজধানীর শাপলা চত্বরের মামলায় সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকালে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা ছিল। তারই প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে এই মামলায় আত্মসমর্পণ করার কথা জানান তিনি। হাজিরা শেষে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, তিনি আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার আগে তাকে গ্রেপ্তার না করা হলে আগামী সপ্তাহের রবি বা সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন।
আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত লতিফ সিদ্দিকী গত বছরের আগস্টে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় তাকে আসামি করে পুলিশ। কয়েক মাস পর জামিনে মুক্তি পান তিনি।
২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকার মতিঝিলে শাপলা চত্বর, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামে ৬১ জনকে হত্যার অভিযোগে মামলাটি করেন সংগঠনটির অন্যতম নেতা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। সেই মামলায় গত সোমবার (২৭ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পলাতক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে।
এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে 'সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির' অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক মন্ত্রী দীপুমনি, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, এনটিএমসির সাবেক প্রধান জিয়াউল আহসান, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক, ফারজানা রূপা, শাহরিয়ার কবির এবং পুলিশের সাবেক ডিআইজি মো. আব্দুল জলিল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মহিউদ্দিন খান আলমগীর, র্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান বেনজীর আহমেদ, বিজিবির সাবেক মহাপরিচালক ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ ৩০ জনের বেশি অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
এই ঘটনায় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।