সিলেটটুডে ডেস্ক | ০২ আগস্ট, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও শিবির নেতা ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে দুজন অতিথির বিরুদ্ধে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডে’ জড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার বিকেলে হল প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে এবং উভয় পক্ষই তাদের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হওয়ার দাবি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযোগের বিষয়ে হল প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির বৈঠক চলাকালে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হল প্রশাসন ও পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।
এ ঘটনায় শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোছাদ্দিক আল হক (শান্ত) বলেন, অভিযোগের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে এবং এজিএসকে রক্ষা করতে ছাত্রশিবির চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, তদন্তের সময় শিবিরের নেতা-কর্মীরা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালান, এতে তাদের কয়েকজন আহত হন।
অন্যদিকে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক তৌকির হাসান ছাত্রদলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্ত কমিটির বৈঠক চলাকালে ছাত্রদলের কয়েকজন সদস্য কক্ষে প্রবেশ করে চাপ সৃষ্টি করেন। পরে ‘ছবি তোলার’ অভিযোগ তুলে তারা উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং শিবিরের এক সদস্যের ওপর হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়েও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান।
ঘটনার পর শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূঞা পদত্যাগ করেছেন বলে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল- উভয় পক্ষই দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, শহীদুল্লাহ হলে দুই পক্ষের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। খবর পেয়ে সহকারী প্রক্টরদের নিয়ে একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
এ দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের একটি তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে হলের প্রিন্সিপাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার বিল্লাল হোসেন সমকালকে বলেন, প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের কোনো লিখিত কিছু আমরা পাইনি। এ ব্যাপারে স্যার আমাদের কিছু জানায়নি।