সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৪ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যাওয়ার ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলন শুরু হবে নয়াদিল্লিতে। এই অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
গত ২৩ জুলাই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তাঁর দপ্তরে সাংবাদিকদের জানান, ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে। ওই আমন্ত্রণপত্র ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো হলো—ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। অন্যদিকে জোটটির অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনাম।
১১ সদস্যবিশিষ্ট ব্রিকসে বাংলাদেশ সদস্য না হলেও ‘আউটরিচ’ পর্বে অংশ নিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
এরআগে, গত ২৩ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছিলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ করেছে বলে জানিয়েছেন। তিনি তখন বলেন, ‘আমন্ত্রণপত্রটি আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে। আমরা এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি।’
ভারত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জোটটির সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে কী হিসেবে বাংলাদেশকে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এনিয়ে ভারত পরিস্কার করেনি।
৩১ জুলাই নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। তিনি জানতে চান, বাংলাদেশ থেকে কিছু মন্তব্যে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে তাঁর পদবি ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহার করা হয়নি। তাঁকে ‘বিমসটেকের চেয়ার’ হিসেবে সম্বোধন করে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিষয়টিকে তারা অপমানজনক বলে মনে করছে। এ বিষয়ে কি একটু স্পষ্ট করবেন যে, তারেক রহমানকে পাঠানো আমন্ত্রণটি কেমন ছিল? এই প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘ব্রিকসের আমন্ত্রণ সম্পর্কে আপনাদের প্রশ্নের বিষয়ে বলি, আমরা ব্রিকস সামিট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সব ধরনের প্রস্তুতির সঙ্গে এটি আয়োজন করা হচ্ছে। আমন্ত্রণ ও কারিগরি বিষয়ে পরে আপনাদের হালনাগাদ তথ্য (আপডেট) দেব।’