Sylhet Today 24 PRINT

পরিবারের ৪ সদস্য রহস্যজনকভাবে ‘নিখোঁজ’

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৬ আগস্ট, ২০২৬

চাঁদপুর শহরের এস কে শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস, তার স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।

বিপুল অংকের ঋণ, পাওনাদারের হুমকি এবং গচ্ছিত স্বর্ণালংকার ফেরত না দেওয়ার অভিযোগের মুখে তারা আত্মগোপন করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিন্টু দাসের নিকটাত্মীয় এবং চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে।

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি দাস, বড় ছেলে প্রিয়ম দাস ও ছোট ছেলে রুপম দাস। প্রিয়ম দাস স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

উপমা দে বলেন, পিন্টু দাস স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে চাঁদপুর শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার বিভিন্ন ধরনের ঋণ ছিল। সম্প্রতি পাটোয়ারী বাড়ির এক ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিলেন বলে তারা জানতে পারেন। এরপর থেকেই পিন্টু দাস পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন বলে তাদের ধারণা।

তবে পিন্টু দাসের নিখোঁজ হওয়ার কারণ সম্পর্কে ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, পিন্টু দাস স্বর্ণ বন্ধক রেখে অর্থ দেওয়ার ব্যবসা করতেন। অনেকের কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রাখার পর তা ফেরত দিতে না পারায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সমিতি থেকে ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ার কারণেও তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে তাদের দাবি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পিন্টু দাস বিভিন্ন সময়ে একাধিক স্থানে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। সর্বশেষ চাঁদপুর শহরের মদিনা মার্কেটের নিচতলায় এস কে শিল্পালয় নামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। তার বিরুদ্ধে স্বর্ণের বাজারমূল্যের তুলনায় কম টাকা দিয়ে তা বন্ধক রাখার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।

রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা রাসেল খান দাবি করেন, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস তাকে পরদিন আসতে বলেন। এরপর পিন্টু দাসের পরিবারসহ নিখোঁজ হওয়ার খবর পান তিনি। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানান।

এছাড়া দক্ষিণ গুণরাজদী এলাকার জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে পিন্টু দাস মদিনা মার্কেটে এস কে শিল্পালয় নামে দোকান ভাড়া নেন। তার মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। কুমিল্লা ও মুরাদনগরেও তার আত্মীয়স্বজন রয়েছেন বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, পিন্টু দাসসহ একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে তাদের সন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.