Sylhet Today 24 PRINT

হাম: অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতির বলি হয়েছে অসংখ্য শিশু

সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফাইল ছবি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের বারবার দেওয়া সতর্কতা ও চিঠিপত্র সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে হামের টিকার সুপ্রতিষ্ঠিত সরবরাহ ব্যবস্থায় হঠাৎ পরিবর্তন আনে অন্তর্বর্তী সরকার। ‘মুক্ত দরপত্র’ চালুর এই ভুল নীতি এবং প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে দেশে তৈরি হয় টিকার তীব্র সংকট, যার সরাসরি বলি হতে হয়েছে অসংখ্য নিরপরাধ শিশুকে।’

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংসদ অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ১৯ মাসের শাসননামায় স্বাস্থ্যখাতের কার্যকারিতা ও পরিচালনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্ন উত্থাপন করেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্যা।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশাল অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও নীতিনির্ধারকদের এই সিদ্ধান্তহীনতা ও দায়িত্বহীনতার মাশুল শেষ পর্যন্ত দিতে হলো প্রাণ দিয়ে।’

‘বিগত সরকারের সময়ে হামের টিকার তীব্র সংকট এবং তার প্রভাবে টিকাদান ব্যাহত হওয়ার পেছনের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী ভুলগুলো আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সংস্থার বরাতে উঠে এসেছে।’

সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘ দিন ধরে জাতিসংঘের শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন বা গ্যাভির সহায়তায় আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত হামের টিকা সরাসরি সংগ্রহ করে আসছিল। তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দীর্ঘদিনের এই সুপ্রতিষ্ঠিত ও সফল পদ্ধতি হঠাৎ পরিবর্তন করে মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।’

‘তৎকালীন ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স অন্তর্বর্তী সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে জানান, জরুরি জীবনরক্ষাকারী টিকার ক্ষেত্রে সাধারণ মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি একদমই উপযুক্ত নয় এবং এর ফলে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। এই বিষয়ে সতর্ক করে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ৫-৬টি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয় এবং প্রায় ১০টি জরুরি বৈঠকে সম্ভাব্য বড় ধরনের সংকটের ব্যাপারে বারবার সতর্ক করা হলেও তৎকালীন নীতিনির্ধারকেরা তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নতুন দরপত্র পদ্ধতি চালু করার পরপরই অর্থ ছাড় ও নথি অনুমোদন সংক্রান্ত নথিপত্র আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। এর ফলে আন্তর্জাতিক গুদামে টিকার পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও ঢাকা থেকে সময়মতো চূড়ান্ত সম্মতি ও তহবিল ছাড় না হওয়ায় টিকার চালান দেশে পৌঁছাতে মারাত্মক বিলম্ব ঘটে।’

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নীতিনির্ধারণী ব্যর্থতার কারণে দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত টিকাদান কর্মসূচি পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে সরকারের পক্ষ থেকে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পরিপূরক হাম-রুবেলা বা এমআর বিশেষ ক্যাম্পেইন আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাবে দেশজুড়ে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের হার আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পায়।’

‘সঠিক সময়ে টিকার জোগান না থাকায় এবং বিশেষ ক্যাম্পেইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরবর্তী বাংলাদেশের সাধারণ শিশু ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে হামের প্রাদুর্ভাব অতি দ্রুত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী রূপ ধারণ করে।’

এ সময় তিনি সরকারের পক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিগত দুটি অর্থবছরের মোট বাজেট বরাদ্দের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

মন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। যার উদ্দেশ্য ছিল স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক উন্নয়ন ও সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখা। পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এই বরাদ্দের পরিমাণ বাড়িয়ে মোট ৪১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়।

এই বিপুল অঙ্কের টাকা মূলত পরিচালন খাত এবং উন্নয়ন খাত- এই দুইটি প্রধান বিভাগে ভাগ করে ব্যয় করা হয়েছে বলে তিনি সাখাওয়াত হোসেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.