সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো লঙ্ঘন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেওয়া বেশ কিছু পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘ নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফররুখ মাহমুদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাবি কর্তৃপক্ষের এই অবস্থানের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ ও লালন করে। তবে ‘Dhaka University Order, 1973’ এবং সংবিধিবদ্ধ অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো সম্পত্তি তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ সিন্ডিকেটের এখতিয়ারভুক্ত এবং ছাত্র সংসদের যেকোনো সিদ্ধান্ত উপাচার্যের নির্দেশনা সাপেক্ষে গ্রহণ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ডাকসু কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়া কলাভবন সংলগ্ন ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ এখতিয়ারবহির্ভূত।
সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া ডাকসুর পক্ষ থেকে অনুমোদন ছাড়া শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য আলাদা ওয়েবসাইট চালু এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের বিষয়টিকে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে ঢাবি প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অনুমোদিত নীতিমালা রয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের পথে। অনুমোদনহীন আলাদা মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার শামিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের ‘দ্বৈত প্রশাসন’ বা সমান্তরাল কাঠামো প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রশাসন জানায়, ডাকসুর সব কার্যক্রম প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই পরিচালিত হতে হবে। প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।