সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে সম্ভাবনাময় ১০ জন তরুণ-তরুণীকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ ও অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এ-সংক্রান্ত নীতিমালা গতকাল প্রকাশ করা হয়। এ অর্থায়নের জন্য আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। সর্বোচ্চ ২৮ বছর বয়সী যেকোনো বাংলাদেশী নাগরিক এজন্য আবেদন করতে পারবেন।
প্রাথমিকভাবে আট বিভাগের আট নির্বাচিত জেলার ৬৪টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হবে। জেলাগুলো হলো মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা।
নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো স্থানীয় ব্যাংকের শাখায় আবেদন জমা দেয়া যাবে। তবে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। বিদ্যমান ব্যবসার পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক ধারণাও এ কর্মসূচির আওতায় সমপ্রাধান্য পাবে। কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালকা প্রকৌশল এবং প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপসহ দেশের প্রচলিত আইনে বৈধ সব ব্যবসা এ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তবে সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মী, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি এবং আগে ব্যাংক ঋণ নেয়া উদ্যোক্তারা এ সুযোগ পাবেন না।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে মূল ভূমিকা পালন করবে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ‘লিড ব্যাংক’ মনোনীত করবে। এসব ব্যাংক শাখা পর্যায়ের সব কার্যক্রম ও জেলাভিত্তিক যোগাযোগ সমন্বয় করবে। আবেদন বাছাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তা, ব্যাংক প্রতিনিধি, খাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সম্পৃক্ত করে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা হবে।
অর্থায়নের পাশাপাশি তরুণদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিটি আবেদনকারীকে আর্থিক স্বাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। নির্বাচিতদের ব্যবসায় প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএন প্রাপ্তিতে সহায়তা এবং বাজার সংযোগের সুবিধা দেয়া হবে। কোনো পর্যায়ে তদবির বা অসত্য তথ্য দেয়া হলে প্রার্থিতা সরাসরি বাতিল ও আবেদনকারীকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর ‘উদ্যোগ: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ শীর্ষক এ প্রোগ্রাম ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রথম পর্যায়ে ৬৪টি উপজেলায় ৬৪০ তরুণ উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা করে অর্থায়নের কথা বলা হয়। এর অর্ধেক থাকবে ব্যাংক ঋণ, বাকি অর্ধেক অনুদান। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদহার হবে ৪-৭ শতাংশ। এজন্য কোনো জামানত দিতে হবে না। তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অংশ সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হবে। এক্ষেত্রে গ্রাহক প্রচলিত নিয়মে খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং ভবিষ্যতে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা হারাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের আটটি বিভাগের ৬৪টি জেলায় মোট ৫০৩টি উপজেলা রয়েছে। সে হিসাবে প্রতি উপজেলায় ১০ জন করে মোট ৫ হাজার ৩০ উদ্যোক্তাকে অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এর মধ্যে ২৫০ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাকি ২৫০ কোটি টাকা দেবে ব্যাংকগুলো।
নতুন কর্মসংস্থান তৈরি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করবে ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রথাগত কোনো প্রতিযোগিতা না বানিয়ে ব্যাংকগুলো তাদের উপজেলা শাখার মাধ্যমে নিজেরাই যোগ্য তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করবে। এরপর তাদের ব্যবসার ধারণা ও আর্থিক চাহিদা মূল্যায়ন করে সরাসরি অর্থায়ন করা হবে।’ ফলে প্রান্তিক পর্যায় থেকে অনেক উদ্যোক্তা উঠে আসবে বলেও দাবি করেন তিনি।