সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করার প্রতিবাদে সেখানকার মেঝেতে জিন্নাহর পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের ছবি সাঁটিয়ে পদদলন করেছেন একদল শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ৮-১০ জন শিক্ষার্থী।
তাদের একজন ওয়াসিম উদ্দিন রাহাত বলেন, “বাংলাদেশ ভাষার জন্য রক্ত দেওয়া সালাম, বরকতের দেশ। বাংলাদেশ ৩০ লক্ষ মানুষের রক্ত দিয়ে কেনা দেশ। সেখানে যে আমার ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছে, তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান দেওয়া আমরা কখনো সহ্য করব না।
“গোলাম আযম একজন কুখ্যাত রাজাকার। সেই রাজাকারের ছবি ডাকসুতে স্থান পায়নি। তাই আমরা ঘৃণার প্রতীক হিসেবে মাটিতে লাগিয়েছি তাদের ছবি। এদেশের মানুষের পায়ের নিচে থাকা উচিত তাদের।”
ডাকসু সংগ্রহশালার ফটকের সামনের মেঝেতে দুটি এবং সংগ্রহশালার ভেতরের মেঝেতে দুটি ছবি সাঁটিয়ে এ কর্মসূচি পালন বরেন তারা।
সংস্কার শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা রোববার উদ্বোধন করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি ঠাঁই না পেলেও পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’।
পরে সোমবার দুপুরে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর ছবি তিনটি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানান আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক শিক্ষার্থী। এর পরপরই সংগ্রহশালার সেই স্থানটিতে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে জুতাপেটার ছবি সাঁটিয়ে প্রতিবাদ জানায় ছাত্র ফেডারেশন।
ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের আলোচিত ছবি টানানোর ঘটনা তদন্তে সোমবারই উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।