সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমাকে জবাব দেন, আমি এই কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অন্যায়? আমার ছেলেকে কেন হত্যা করা হলো? আমি এর জবাব চাই। আমি এখন কীভাবে বাঁচব?’—নিখোঁজ ছেলে ইশায়েক শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের পর এভাবেই বিলাপ করছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম।
ড. নাহিদা আরও বলেছেন, ‘আমার তো একটাই ছেলে। আমি কেমনে আমার জীবন কাটাব? আমি আমার জীবন পার করব কেমনে? আমারে একটু সবাই বলেন, আমি আমার জীবনটা পার করব কেমনে।’
ছেলে-হারানো মার হাহাকার ঝরছিল, তখন তাকে সান্ত্বনা দিতে যাওয়া স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘এর কোনো জবাব আমার কাছে নেই মা।’
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এ এলাকার এমপি হিসেবে লজ্জিত ও দুঃখিত। এক মাসুম বাচ্চাকে রক্ষা করতে পারলাম না। আমি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। ৯০ দিনের মধ্যে এ ঘটনার বিচার শেষ করতে হবে।’
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে অপ্রীতমের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সন্দেহভাজন হিসেবে তুহিন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তার বাড়ি সানন্দা এলাকাতেই, বাবার নাম নুরুল আলম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি থানার পরিদর্শক মহিবুল আলম ভুঁইয়া।
অপ্রতিম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন ব্যবসায়ী।
এর আগে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
কুমিল্লার এসপি আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং আমরা কিছু ক্লু পেয়েছি। আমাদের কাছে একজন আছে, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আমি এখান থেকে যাওয়ার পর বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখব, তদন্ত করব। প্রকৃত হত্যাকারী না ধরা পর্যন্ত আমরা ননস্টপ এটা নিয়ে কাজ করব।’