Sylhet Today 24 PRINT

‘আমরা গিয়ে দেখি অপ্রতিমকে শেয়াল কামড়াচ্ছিল’: যেভাবে পাওয়া যায় মরদেহ

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের সন্ধান পেতে একটি সিসিটিভি ভিডিও কাজে দেয় বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান।

তিনি বলেছেন, “অপ্রতিম আর আমরা পাশাপাশি বাসায় থাকি। খুবই প্রাণবন্ত একটা ছেলে। একটা ছোট বাচ্চা ছেলেকে কোনো কিছুর জন্য কেউ মেরে ফেলতে পারে—এটা আমরা চিন্তা করতে পারি না। এটা শকিং।

তিনি বলেন, “সকাল থেকে আমরা এটা খোঁজার চেষ্টা করছি। বিভিন্ন জায়গায় সিসিটিভি ভিডিও বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করছি।”

এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের সময় তার শরীরে একটি শেয়াল কামড়াচ্ছিল।

আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সকাল থেকেই অপ্রতিমকে খুঁজছিলাম। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে জঙ্গলের মধ্যে একটি শিশু পড়ে থাকার খবর পাই। তখন আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, অপ্রতিম পড়ে আছে এবং তাকে একটি শেয়াল কামড়াচ্ছিল।’

এ ঘটনায় তুহিন নামে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে ওই ব্যক্তিকে গতকাল রাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা গেছে।

শুক্রবার বিকালে সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি উপশহরের গন্ধমতি এলাকার বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল সে। তারপর থেকে তার খোঁজ মিলছিল না।

সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে হদিশ না পেয়ে রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় জিডি করেন বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস লাগোয়া সালমানপুর এলাকার দক্ষিণ মোড়ে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান বলছিলেন, “আমরা আসলে একটা ছেলেকে অপ্রতিমের সঙ্গে বিভিন্ন রাস্তা অতিক্রম করতে দেখেছি। এভাবে খুঁজতে খুঁজতে আমরা এই রাস্তার কাছাকাছি আসি।

“পরে স্থানীয় একজন মানুষ আমাদের জানায়, এখানে একটা বাচ্চার লাশ পড়ে আছে। সাড়ে ১২টার দিকে তখন আমরা দৌড়াতে দৌড়াতে এসে বীভৎসতা দেখতে পাই। এটা আমরা কখনও মানতে পারছি না।”

বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, অপ্রতিমের কাছে থাকা তার মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি। এ কারণে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শনিবার বিকালে বলেন, তারা একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এ ঘটনায় কিছু ‘ক্লু’ তারা পেয়েছেন।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাথমিক ধারণা, ইশায়াতের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য অপ্রতিমের লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.