সিলেটটুডে ডেস্ক | ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ১৩ বছরের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রথমে তুহিন নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদ নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন সানন্দা এলাকার দক্ষিণ মোড়ের লালমাই পাহাড়ের পাদদেশের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে।
কুমিল্লা কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মফিজ উদ্দিন ভূইয়া জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়। এতে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশের বিশেষ দলও অভিযান চালাচ্ছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে দক্ষিণ মোড়ের সানন্দা এলাকায় প্রবেশপথ পর্যন্ত টুপি ও সাদা শার্ট পরা তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিম ছিল।
অপ্রতিমের মায়ের আইফোনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মফিজ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, পুলিশ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছে। এখনই সবকিছু প্রকাশ করতে চান না তিনি।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ছেলের বয়সের চেয়ে বড় কয়েকজন বন্ধুর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেলে অপ্রতিম তাদের সঙ্গে ছিল কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার দাবি জানান তিনি।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শনিবার দুপুরে বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে মরদেহের সঙ্গে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।