সিলেটটুডে ডেস্ক | ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
গাইবান্ধায় মাদকের অর্থ জোগাড় করতে নিজের ১১ মাসের শিশুসন্তানকে বাবা বিক্রি করে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। কিনে নিয়ে সেই শিশুটিকে আবার ১০ হাজার টাকা লাভে বিক্রি করে দেওয়ার হয় এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে।
বিক্রি করে দেওয়ার দুই মাস পর তাকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন। রোববার রাতে জেলার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকার সোলের মোড়ের শহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শিশুটির বাবাসহ চারজনকে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন- শিশুটির বাবা সাদুল্লাপুর উপজেলার মন্দুয়ার গ্রামের হামিদুল মিয়া (৩৩), সদর উপজেলার উত্তর কোমরপুর গ্রামের বাস চালকের সহকারী আব্দুল মজিদ সরকার (৩৬), ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকা মোছা. মোরশেদা বেগম (৪৫) এবং একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেসমিন আক্তার (২৮)।
পুলিশ জানায়, শিশুটির বাবার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
শিশুটির মা রুমানা আক্তার বলেন, ১৭ জুলাই জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি স্বামী হামিদুল। দুই দিন পর ফোন করে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার শর্তে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা না পেয়ে পরে শিশুটিকে বিক্রি করে দেন। পরবর্তীতে তিনি পুলিশের কাছে যান।
গাইবান্ধা ডিবি পুলিশের ওসি আব্দুল মোত্তালিব বলেন, হামিদুল মিয়া মাত্র ৩১ হাজার টাকায় নিজের মেয়েকে বাস চালকের সহকারী আব্দুল মজিদের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে আব্দুল মজিদ ও তার ফুফাতো বোন মোরশেদা শিশুটিকে ৪০ হাজার টাকায় ফুলছড়ির নিঃসন্তান দম্পতি শহিদুল ইসলাম ও জেসমিন আক্তারের কাছে পুনরায় বিক্রি করেন।
তিনি বলেন, শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।