Sylhet Today 24 PRINT

ডেঙ্গুতে তরুণ চিকিৎসকের মৃত্যু

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আঁচল রায় নামে এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩০ বছর।

ডা. আঁচল রায় ৪২তম বিসিএসের কর্মকর্তা ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ছিলেন। চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি এফসিপিএস মিডটার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। সম্প্রতি এমআরসিপি (ইউকে) পরীক্ষার পার্ট ওয়ানও পাস করেন।

স্বজনেরা জানান, অসুস্থ হওয়ার আগের দিনও রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছিলেন আঁচল। এমনকি পরদিন ডেঙ্গু ইউনিটে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই ডেঙ্গুর জটিলতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

আঁচলের স্বামী বিপ্লব দাস জানান, প্রায় পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন আঁচল। অসুস্থতার প্রথম দুই দিনও তিনি সরকারি দায়িত্ব পালন করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে প্রথমে তাঁকে সাধারণ কেবিনে রাখা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে তাঁর শরীরে প্লাজমা লিকেজ বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দেয়। এর সঙ্গে ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস, গুরুতর লিভার ইনভলভমেন্ট এবং একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টার পরও আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

আঁচলের এক ব্যাচ জুনিয়র সহকর্মী ও নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী এক চিকিৎসক জানান, আঁচল তাঁদের মেডিকেল কলেজের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর স্বামী বিপ্লব দাস ছিলেন পঞ্চম ব্যাচের। মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় তাঁদের পরিচয় থাকলেও পরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় তিন বছর সম্পর্কের পর তাঁরা বিয়ে করেন। তাঁদের বিয়ের বয়স ছিল প্রায় ১৭ মাস। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না।

৪২তম বিসিএসে যোগ দেওয়ার পর আঁচল প্রথমে একটি উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। সরকারি চাকরির বাধ্যতামূলক উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের পর তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। তাঁর মূল দায়িত্ব ছিল নিউরোলজি বিভাগে। পরে তাঁকে শ্বাসতন্ত্র চিকিৎসা বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছিল। দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ডেঙ্গু রোগীদেরও চিকিৎসা দিয়েছেন।

আঁচলের স্বামী বিপ্লব দাস জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে (নিপোর্ট) কর্মরত। আঁচলের পূর্বপুরুষের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হলেও তাঁর বেড়ে ওঠা ঢাকায়। বিকেল চারটার দিকে রাজধানীর রাজারবাগ কালীমন্দিরের শ্মশানঘাটে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.