Sylhet Today 24 PRINT

সাইবার সুরক্ষা খসড়া আইনে বাকস্বাধীনতার গুরুতর ঝুঁকি, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬’-এর খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা একাধিক আন্তর্জাতিক সংগঠন। তাদের মতে, খসড়ায় ২০১৮ সালের বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একাধিক বিধানের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে ওই আইন ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল।

সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, প্রস্তাবিত সংশোধনী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতে এবং জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের পথ সংকুচিত করতে পারে।

সিভিকাস (CIVICUS), রবার্ট অ্যান্ড এথেল কেনেডি হিউম্যান রাইটস সেন্টার, ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্স এবং সাউথ এশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস (এসএএইচআর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানায়। বিবৃতিতে সংগঠনগুলো নিজেদের এশিয়ায় মানবাধিকার রক্ষা ও প্রসারে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সিভিকাসের এশিয়া প্যাসিফিক গবেষক জোসেফ বেনেডিক্টও বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ প্রণীত হয় ১০ এপ্রিল এবং এর কিছুদিন পর ৩০ জুন তা সংশোধন করা হয়। এখন খসড়া আকারে আরেক দফা সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। সংগঠনগুলো জানায়, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার ও নাগরিকের গোপনীয়তা রক্ষায় সরকারের দায়িত্ব তারা স্বীকার করে। তবে এসব পদক্ষেপ মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতাকে পূর্ণ মর্যাদা দিয়েই নিতে হবে; মতপ্রকাশ, তথ্যপ্রাপ্তি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর অযৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে না।

সংগঠনগুলোর মতে, খসড়ায় ব্যবহৃত ‘গুজব’, ‘ভুল তথ্য’, ‘ডিজিটাল মানহানি’, ‘অপমান’, ‘বুলিং’ ও ‘ফেক নিউজ’-এর মতো শব্দ অস্পষ্ট, অতি বিস্তৃত এবং ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ব্যাখ্যার সুযোগ রাখে। সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা না থাকায় আইনের অপপ্রয়োগ ও যথেচ্ছ প্রয়োগের ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, খসড়ার ধারা ২৫ ও ২৬-এ যে নতুন অপরাধ যুক্ত হয়েছে, তাতে অনলাইনে মতপ্রকাশ–সংক্রান্ত আচরণের জন্য দীর্ঘ কারাদণ্ড, বড় অঙ্কের জরিমানা এবং বিচারপূর্ব আটকের বিধান রাখা হয়েছে। যেমন ধারা ২৬ক-তে অনলাইনে ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’ প্রকাশ বা ছড়ানোর দায়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৪০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের কথা বলা হয়েছে। সংগঠনগুলোর মতে, এতে অভিযোগের সত্যতা বা উদ্দেশ্য যথাযথভাবে যাচাইয়ের আগেই কাউকে অপরাধী বানানোর ঝুঁকি থাকে। কর্তৃপক্ষের হাতে অতিরিক্ত এখতিয়ার থাকায় নির্বাচিত ক্ষেত্রে প্রয়োগ ও অপব্যবহারের আশঙ্কাও বাড়ে।

এ ছাড়া ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক করার অনুরোধ জানাতে পারে, এমন কর্তৃপক্ষের সংখ্যা বাড়ানো এবং কিছু অপরাধকে জামিনঅযোগ্য করার প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে সংগঠনগুলো বলেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর সরকার এ বিষয়ে একটি পরামর্শ সভা করলেও তাতে কেবল কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে ডাকা হয়েছিল; সুশীল সমাজের সংগঠন বা মানবাধিকার কর্মীদের যুক্ত করা হয়নি। অথচ ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা একসঙ্গে আন্দোলন করেছিলেন, কারণ ওই আইনে তারাই গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। খসড়াটি অনলাইনে প্রকাশ করা হয় ১৪ সেপ্টেম্বর, আর মতামত জানানোর জন্য সময় দেওয়া হয় এক সপ্তাহের সামান্য বেশি। সংগঠনগুলোর ভাষ্য, এসব পদক্ষেপ দেখে মনে হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের উদ্বেগকে আমলে না নিয়েই সরকার পরামর্শ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করতে চায়।

সংগঠনগুলো বাংলাদেশ সরকারকে বর্তমান খসড়াটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার কর্মী, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, আইন পেশাজীবী ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে প্রকৃত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সময়াবদ্ধ পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানানো হয়েছে, যাতে যেকোনো সংশোধনী সামগ্রিক হয়, অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় এবং সংবিধানের নিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতা ও মানদণ্ডের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ থাকে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.