Sylhet Today 24 PRINT

শেখ মুজিবুর রহমান হলের গেট থেকে হাদি’র নাম মুছে ফেলা নিয়ে যা বলল ঢাবি প্রশাসন

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০২ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের মূল প্রবেশদ্বারে 'শহীদ ওসমান হাদি হল' লেখাটি মুছে ফেলার একদিন পরও বিষয়টি স্বীকার করেনি হল কর্তৃপক্ষ কিংবা ঢাবি প্রশাসন। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের চাপের মুখেও প্রশাসন এ বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলছে না।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তার নাম লিখে দিয়েছিল হলটির মূল ফটকে। কিন্তু ৯ মাসের মাথায় সেটি মুছে ফেলা হলেও, প্রশাসন এমন কোনো নির্দেশনা দেয়নি বলে জানিয়েছে। আগে এই হলের নাম ছিল 'জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল'।

হল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ফটকে পুনরায় লেখা হবে কি না, সে বিষয়ে তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত হলটির প্রবেশদ্বারে কোনো নামই দেখা যায়নি।

গত বুধবার কয়েকজন শ্রমিক হলের মূল ফটক থেকে 'হাদির' নাম মোছা শুরু করলে শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রতিবাদ জানায়। প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতাও আছেন।

হলের প্রাধ্যক্ষ মো. আখতারুজ্জামান জানান, নাম মোছার ব্যাপারে হল কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

বুধবার কেন নাম মোছা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'হলের দেয়ালের লেখা ও গ্রাফিতি দেখতে ভালো লাগছিল না, সেগুলো পরিষ্কারের কাজ চলছিল। শ্রমিকরা নাকি অন্য কেউ হাদির নাম মুছে ফেলেছে, তা এখনই বলতে পারছি না।'

প্রো-ভিসি (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর জানান, তিনিও এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেননি।

তিনি বলেন, 'শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম অপরিবর্তিতই আছে। গত অধিবেশনে সিনেট নাম পরিবর্তনের বিষয়টি অনুমোদন করেনি।'

নাম মুছে ফেলার পর গত বুধবার রাতে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ ও হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আল সাবাহর আহ্বানে শিক্ষার্থীরা হল ফটকের সামনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান বিএনপি-সমর্থিত প্রশাসন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এই নির্লজ্জ কাজকে আমরা তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ক্যাম্পাসের ৫টি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব গত জুনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট সভায় পাস না হওয়ার এর প্রতিবাদে সভা থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন ডাকসুর ভিপিসহ ৫ প্রতিনিধি।

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সিনেট সভায় জানান, প্রস্তাবটি প্রথমে সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

বর্তমানে ডাকসুতে নির্বাচিতদের অধিকাংশই ছাত্রশিবিরের নেতা।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.