Sylhet Today 24 PRINT

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতা ঝোলাল কে?

আগে ভাঙচুর করা হলেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বীরশ্রেষ্ঠ হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা ও অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হওয়া ৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এই রাষ্ট্রীয় খেতাব দেওয়া হয়েছে।

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা ও অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হওয়া ৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এই রাষ্ট্রীয় খেতাব দেওয়া হয়েছে। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের ধলই বিওপিতে তিনি শহিদ হন।


ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশদ্বার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য রয়েছে। তবে এই ভাস্কর্যে কে বা সম্প্রতি জুতার মালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে ভাস্কর্যটির গলায় জুতার মালা ঝোলানো অবস্থায় দেখা যায়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নোমান হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছি। আমরা পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছি। দ্রুতই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

এদিকে, এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে। ঝিনাইদহ সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবু তোয়াব অপু গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফেসবুকে বিষয়টি দেখে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা পরানো রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি ভাস্কর্যটিতে সাদা রঙ করায় এটি দূর থেকেও দেখা যায়। সকালে ভাস্কর্যটির গলায় জুতার মালা পরানো দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে অনেকেই সেটি দেখতে এসেছিলেন।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে দুপুরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরে গিয়েছিলাম। আমি যাওয়ার আগেই কেউ মালা সরিয়ে ফেলেছে। তবে স্থানীয় দোকানদারদের কাছে শুনেছি, রাতে দুষ্কৃতিকারীরা এই কাজ করেছে। আমরা মিটিং করে এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আসাদুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র ভাস্কর্যটি এখানে রাখতে চায় না। তাই রাতের আঁধারে তারা এ ন্যক্কারজনক কাজ করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।

তিনি আরও বলেন, এই ভাস্কর্যটি কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়েছে। একপক্ষ এটি ভেঙে অন্য পক্ষের ওপর দোষ চাপাতে পারে। তাই চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের প্রবেশমুখে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর উদ্বোধন করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার মেয়র। চত্বরটিতে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের পতাকা ও মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুই দফায় ভাস্কর্যটি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। পরে গত ১৩ জুলাই থেকে কয়েকদিন ধরে একটি চক্র ভাস্কর্যটি ভাঙচুর শুরু করে। জেলা প্রশাসন ভাঙচুর থেকে নিবৃত্ত করলেও আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য জানা যায়নি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.