সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
‘আপনারা একটা কাজ করবেন এখন থেকে ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন অথবা ব্যথা কেন উঠছে না, পানি কেন ভাঙছে এযাবতীয় সিদ্ধান্ত সাংবাদিক থেকে নিয়ে উনাকেই বলবেন চিকিৎসাটা করতে।’
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া নামে এক চিকিৎসক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এমন একটি স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নরমাল ডেলিভারি করানোর সময় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর চিকিৎসক ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া নিজের ফেসবুক পেজে ওই পোস্ট দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের খামারপুষ্কুরুনী গ্রামের ওমানপ্রবাসী মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী নাজমা আক্তারের প্রসবব্যথা উঠলে তাকে চৌদ্দগ্রামের আল নুর নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে বিকেলে নাজমা আক্তার কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেও নবজাতকের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে প্রসূতি নাজমাকে কুমিল্লায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন তার স্বামী।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া দাবি করেন, নাজমা তার কাছে আসার পর আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট ভালো ছিল। প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পরও একপর্যায়ে রোগীকে কুমিল্লায় রেফার করা হয়। যে নবজাতকের তিনি নিজে ডেলিভারি করাতে পারেননি, তার মাথায় তিনি কীভাবে আঘাত করবেন—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পোস্টে চিকিৎসক আরও দাবি করেন, শিশুটি তার হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে জন্ম নেয়নি। পাশাপাশি রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে পিটোসিন দেওয়ার অভিযোগেরও প্রতিবাদ করেন তিনি।