সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা-রক্ষণাবেক্ষণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
বিদেশিদের কাছে বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে চলা আন্দোলনের মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এই চুক্তি হতে যাচ্ছে।
প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে পাঁচটি জেটি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টি রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ওঠানামার ৪০ শতাংশের বেশি এই টার্মিনালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড টার্মিনালটি পরিচালনা করে আসছিল। গত বছরের ৬ জুলাই তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরদিন বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক এর পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।
এই প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে এবং বিদেশি অপারেটরের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হলে বন্দর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
নৌপরিবহন সচিব মো. জাকারিয়া বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এই চুক্তি ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরি ও ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।’
সরকারের ভাষ্য, এই চুক্তির ফলে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড ও কনটেইনার ডুয়েল টাইম কমবে এবং আমদানি-রপ্তানিকারকদের লজিস্টিকস ব্যয় সাশ্রয় হবে। ফলে বিশেষ করে পোশাক, কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো খাতগুলো উপকৃত হবে।
আন্দোলনের মধ্যে চুক্তি প্রসঙ্গে জাকারিয়া বলেন, সরকার আশা করছে, এই চুক্তির ফলে বন্দর ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
চুক্তিটি সরকার থেকে সরকার ব্যবস্থার আওতায় করা হয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ড দুবাই সরকারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এই চুক্তির লেনদেন-সংক্রান্ত পরামর্শক ছিল।
এটি ল্যান্ডলর্ড-পোর্ট মডেল অনুসরণ করবে। এনসিটির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) হাতে, ডিপি ওয়ার্ল্ড ১৫ বছর পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের দায়িত্বে থাকবে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে টার্মিনাল পরিচালনা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানসহ সিপিএর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রকল্পটির ব্যয় ২০৫ মিলিয়ন ডলার ধরা হলেও চুক্তিতে কনসেশন মেয়াদে অপারেটরের প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে টার্মিনালের আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতির উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনসিটি প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব এবং আড়াই হাজার কোটি টাকা নিট আয় করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বেছে নেয়। তবে তীব্র বিরোধিতা ও চলতি বছরের শুরুর দিকে শ্রমিকদের ধর্মঘটের মুখে প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার নতুন করে আবারও আলোচনা শুরু করে।