সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
ব্যাপক সমালোচনার মুখে ‘আমি এই পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চেয়েছেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
সোমবার দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে নিজের আগের বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন রতন।
সৌদি আরবে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে বাংলাদেশের দুই নারী-পুরুষকে মৃত্যুদন্ড প্রদান ইস্যুতে সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেলে ‘আমি এই পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’।
ষ্টার নিউজ চ্যানেলে ওই টক-শোতে কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘আমি এই কথা প্রকাশ্য টেলিভিশনে বলছি, বুঝে শুনে বলছি, এখানে বিবেক টিবেক খাটাতে আইসেন না, আমি পবিত্র মসজিদের প্রতি ইমোশন থেকেই বলছি, ঐ পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক এটা আমি চাই না, আমার এই কথা বলার জন্য আমাকে যে কোন শাস্তি দিতে পারেন, আমি মাথা পেতে নেবো।’
সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রবাসীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এমন বক্তব্যে।
এ অবস্থায় সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে ক্ষমা চেয়ে কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘সম্প্রতি ষ্টার নিউজের একটি টক শোতে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদের দুঃখজনক ঘটনাটি নিয়ে, সংকীর্ণভাবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করতে গিয়ে আমি আবেগবশত বলেছিলাম, “আমি এই পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’’।
তিনি লিখেন, ‘আমার এই মন্তব্যটি করা একেবারেই ঠিক হয়নি এবং আমি তা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রত্যাহার করছি। আমার এই মন্তব্যের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজন এবং আমাদের প্রবাসী ভাইবোনদের মনে যে কষ্ট ও আঘাত দিয়েছি, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’
রতন আরও লিখেন, ‘মানুষ ভুল করতেই পারে, আর ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ মহান আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত। আমার ওই মন্তব্যটি জন্য আমি দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’
প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজ করার অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটি।
গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়, মসজিদের পবিত্রতা, অপরাধ সংঘটনের পরিস্থিতি এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত এ সাজা দেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম নজরুল ইসলাম ও সিটি আখতার।