সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনাটি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, যারা এই কাজগুলো করেন, তারা কোনোভাবে এর পক্ষে সমর্থন পাবেন না।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব বিষয়ে কথা বলেন।
যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেইন সাঈদী মামলা প্রক্রিয়ায় জড়িত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতায় এমন ঘটনা ঘটলে সেটি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।’
তিনি বলেন, একজন মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর তার প্রতি ন্যূনতম সম্মান দেখানো সমাজের দায়িত্ব। জীবদ্দশায় কারও রাজনৈতিক অবস্থান, কর্মকাণ্ড কিংবা মতাদর্শ নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু মৃত্যুর পর তার মরদেহের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অতীতেও মৃত ব্যক্তির মরদেহ কিংবা কবরকে কেন্দ্র করে অপমানজনক আচরণের নজির তুলে ধরে তিনি বলেন, সেসব ঘটনাও সমাজে সমর্থন পায়নি। একজন মানুষ মারা যাওয়ার পর তার শেষকৃত্য বা দাফনের অধিকার রয়েছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘যারা এ ধরনের কাজে জড়িত হন, তারা সমাজে শেষ পর্যন্ত নিন্দিত হবেন। কোনও সভ্য সমাজ এ ধরনের আচরণকে প্রশংসা কিংবা সমর্থন করবে না।’
মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
গত শনিবার মানিক পশারী মারা যান। পিরোজপুরে গার্ড অব অনার দেওয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তার দাফনে বাধা দেয়। তাদের ভয়ে কবর খুঁড়তে আসতে পারেনি কেউ। পরে এ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের নারী সদস্যরা রাতের আঁধারে কবর খুঁড়ে তাকে সমাহিত করেন।
তবে পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জহিরুল হক বলেন, ‘মানিক পশারীর দাফনের বিষয়ে আমাদের কোনো বাধা ছিল না। তবে দাফনের ব্যাপারে আমাদের কোনো সহযোগিতাও ছিল না। কাদের ছত্রচ্ছায়ায় এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় দাফন হয়েছে, তা আমরা কিছুই জানি না।’
পিরোজপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন মানিক পশারী। তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জামাতার বাড়িতে ছিলেন। দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর পর শনিবার দুপুর ১২টার দিকে স্বজনেরা তাঁর মরদেহ নিয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদে আসেন। পরে মরদেহ পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর শনিবার রাত দেড়টার দিকে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।