Sylhet Today 24 PRINT

সাভার-আশুলিয়ার ১৭৭ পোশাক কারখানায় ছুটি

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০১ নভেম্বর, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিক ছাঁটাই ও কালো তালিকাভুক্তি বন্ধের দাবিতে ঢাকার আশুলিয়া ও সাভারে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে রোববার (১ নভেম্বর) দুই এলাকার ১৭৭টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

শ্রমিক, শিল্প পুলিশ ও শ্রমিক নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার নিউএজ গ্রুপের দুটি কারখানাসহ ট্রাউজার লাইন ও আল-মুসলিম গ্রুপের কারখানার শ্রমিকেরা কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজ বন্ধ রেখে বসে থাকেন। শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দেওয়ায় কর্তৃপক্ষ বেলা ১২টার দিকে কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করে। পরে শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে সড়কে অবস্থান নেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকেরা নরসিংহপুর এলাকায় আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের পাশে শারমিন গ্রুপের একটি কারখানার ফটকের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা গ্রুপটির সব কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে বের করে দেওয়ার দাবি জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারখানার ফটকে অবস্থান নেন শিল্প পুলিশের সদস্যরা। এতে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থানের সৃষ্টি হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। তবে আশপাশের অন্য কারখানার শ্রমিকদেরও ছুটি দেওয়ার দাবিতে কয়েক দফা পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

এরপর শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল অংশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা করেন তাঁরা। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর, নরসিংহপুর, ছয়তলা ও কাঠগড়াসহ সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার অর্ধশতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, একই দাবিতে বেলা ৩টার দিকে সাভার থানার হেমায়েতপুর এলাকার একে এইচ গ্রুপের শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে সামনের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটান বলে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। টানা ২ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখার পর বিকেল ৫টার দিকে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আশুলিয়ার আল-মুসলিম গ্রুপের এক শ্রমিক বলেন, ‘সরকার অক্টোবর মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করে নতুন বেতনকাঠামো দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু আমরা এর বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি না। এ কারণে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি।’

আশুলিয়ার আরেক পোশাকশ্রমিক বলেন, জিনিসপত্রের দাম ও বাড়িভাড়া বেড়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে। অথচ যাঁরা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখেন, সেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ছে না।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু মালিকপক্ষ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বার্তা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে না। কারখানায় কারখানায় সরকারি ঘোষণার বিষয়টি শ্রমিকদের জানানো হলে আন্দোলন থেমে যাবে বলে তিনি মনে করেন।

বিকেল ৫টার দিকে শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের মুখে আশুলিয়া ও সাভারের ১৭৭টি পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। তবে কোনো পুলিশ সদস্য বা শ্রমিক আহত হননি। সংঘর্ষেরও কোনো ঘটনা ঘটেনি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ [email protected] ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.