Sylhet Today 24 PRINT

জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে বিএনপি অভিসন্ধি ফাঁস

ডেস্ক রিপোর্ট |  ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

জাতিসংঘ মহাসচিবের মূখপাত্রের কাছে ফাঁস হয়ে গেল বিএনপির অভিসন্ধি ও বিএনপির পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য মুশফিকুল ফজল আনসারীর পরিচয়। বক্তব্যের মাঝপথে বিএনপির এই সাংবাদিক নেতাকে থামিয়ে দেন স্টেফান ডুজারিক।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক বুধবার দুপুরে নিউ ইয়র্কে সংস্থার সদরদপ্তরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। প্রশ্নোত্তরের এক পর্যায়ে সাংবাদিক হিসেবে প্রশ্ন করার জন্য কথা বলা শুরু করেন বিএনপির পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য মুশফিকুল ফজল আনসারী।

তিনি বলেন, “জ্বি, ধন্যবাদ জনাব স্টেফানে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপারসন এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৪০ থেকে ৫০ দিনের মতো তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ আছেন। এবং সম্প্রতি সরকার তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, যখন জাতিসংঘ এবং সব উন্নয়ন অংশীদার তাদের সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপে বসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী--” এ সময় তাকে থামিয়ে দেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র।

“আমি এখানেই আপনাকে থামিয়ে দেব। আমি বাংলাদেশের পরিস্থিতির ব্যাপারে সজাগ রয়েছি। আমি শুধু একটি প্রশ্ন শুনতে পেলেই খুশি হব,” তার উদ্দেশ্যে বলেন স্টেফানে ডুজারিক।
গত দুই সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ নিয়ে প্রশ্ন করেন মুশফিকুল। প্রশ্নকালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য উপস্থাপনের পাশাপাশি বিএনপির এজেন্ডা অনুযায়ী জবাব আদায়ের চেষ্টা চালান বলে নিউ ইয়র্কের কয়েক সাংবাদিক এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ডুজারিক ওই কথা বলার পর প্রশ্ন করেন মুশফিকুল, “তারা বলছে, পশ্চিমা দেশ বা জাতিসংঘের কোনো হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। এখন জাতিসংঘের অবস্থান কী?”

এর জবাবে মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, “বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে সে বিষয়ে আমরা অবগত আছি। মহাসচিব খুব উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকায় দেশের স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতি আবারো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।”

এরপর জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রকে প্রশ্ন করতে গিয়ে বলা হয়, “বাংলাদেশ নিয়ে বক্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। তবে আমি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে বক্তব্য জানতে চেয়েছিলাম। এছাড়া সেনাবাহিনীকে নাড়া দেওয়ার চেষ্টা অভিযোগে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যায়ব তাকে গ্রেপ্তার করেছে বলে বলা হচ্ছে।

“আমি এজন্য বলছি-খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে, র্যা বের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নথি গেছে, যিনি শান্তিরক্ষা মিশনে ছিলেন। আমি এ বিষয়ে অনেকবার আপনার কাছে জানতে চেয়েছি। আপনি বলেছেন, সব কিছু জাতিসংঘের নজরে আছে। তবে বাংলাদেশে যে সহিংসতা তার বড় অংশ প্রকৃতপক্ষে সেনাবাহিনী থেকে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যে সেনাবাহিনী থেকে শান্তিরক্ষা মিশনে সৈন্য পাঠানো হচ্ছে। ডিপিকেও (ডিপার্টমেন্ট অফ পিসকিপিং অপারেশনস) কি লোক আনার বিষয়টি পর্যালোচনা করবে?”

এর জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, “আমি বুঝেছি। আমি আপনার প্রশ্ন শুনেছি। গতকাল আপনি যখন প্রশ্ন করেছিলেন তখন আমি সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আপনি জানেন, আপনি যে ঘটনা বা যে ব্যক্তির কথা বললেন সে বিষয়ে আমার কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। শান্তিরক্ষায় কাজ করতে যে সব শর্ত পূরণের কথা রয়েছে সেগুলো নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া আমাদের আছে এবং সেখানে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলোও দেখা হয়। এসব বিষয়ে যদি কোনো তথ্য পাই আমি আপনাকে জানাবো।”

 

 

 

 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.